রংপুর-৪ের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হওয়ার জন্য সরকারের কাছে সরাসরি আহ্বান জানালেন। তিনি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিজের সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় এই দাবি তুলে ধরেন।
আখতার হোসেন বলেন, “সরকারের কাছে আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে কোনোভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ধীরগতি না পায়। বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনো বাধা না পায় এবং ইতিমধ্যে গৃহীত রায়গুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়।” তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানেও জোর দেন, যাতে ট্রাইব্যুনালের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে চলতে পারে।
বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে হোসেন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই নির্বাচন একসঙ্গে দুইটি নির্বাচন ছিল—সংসদ সদস্যদের নির্বাচন এবং গণভোটের নির্বাচন।” তিনি বলেন, নির্বাচনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানের কাঠামোর বাইরে হলেও জাতির স্বার্থে গৃহীত একটি ব্যবস্থা।
হোসেন আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না।” তিনি উল্লেখ করেন যে, গণভোটের আদেশের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও জাতীয় সংসদের সদস্যদের অংশগ্রহণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকরী বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করতে হোসেন সরকারের সর্বাত্মক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিচার বাধাগ্রস্ত না হয় এবং রায়গুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, ট্রাইব্যুনালের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হোক।
হোসেনের বক্তব্যের মধ্যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের জটিলতা উল্লেখ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধানের ভিতরে না থাকলেও, গ্র্যান্ড নর্মের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে এবং এটি এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত।” তিনি বলেন, এই ধরনের ব্যবস্থা দেশের চলমান শাসনকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।
বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করার জন্য হোসেন সরকারকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানেও আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেকোনো ধরণের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হলে ট্রাইব্যুনালের কাজ আরও কার্যকর হবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, রায়ের বাস্তবায়ন না হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ক্ষুন্ন হতে পারে।
আখতার হোসেনের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের সময় দুইটি ভিন্ন প্রক্রিয়া একসঙ্গে পরিচালিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।” তিনি যুক্তি দেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে সংবিধানিক নীতিমালা মেনে চলা এবং আন্তর্জাতিক বিচার সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা জরুরি।
হোসেনের মতে, জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) সরকারের কাছে অনুরোধ করছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়গুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। তিনি উল্লেখ করেন, “বিচার প্রক্রিয়ার কোনো ধীরগতি না ঘটতে হবে, যাতে দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বজায় থাকে।” তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, রায়ের কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হোসেনের আরেকটি মূল দাবি হল, রায়ের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করা। তিনি বলেন, “এমন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে রায়ের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং কোনো ধরণের বাধা সনাক্ত হলে তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।” তিনি এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে চান।
আখতার হোসেনের বক্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) সরকারের প্রতি এই আহ্বান দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের সঠিক বাস্তবায়ন না হলে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
সর্বশেষে, হোসেনের দাবি স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনো বাধা না পায় এবং রায়গুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে সম্মান করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করা হোক।



