30 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরমজান মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকগণ ৪,৩৬৯ জন বন্দিকে মুক্তি দিল

রমজান মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকগণ ৪,৩৬৯ জন বন্দিকে মুক্তি দিল

পবিত্র রমজান মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতারা একসাথে ৪,৩৬৯ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে ব্যাপক সাধারণ ক্ষমা বাস্তবায়ন করেছেন। এই পদক্ষেপটি রমজানের শুভ মুহূর্তে সমাজে শান্তি ও সমবায়ের বার্তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয়তার মানুষ অন্তর্ভুক্ত, যাদের নির্বাচন ভাল আচরণ ও নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই মুক্তি উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি এমিরেটের শাসকগণ পৃথকভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ১,৪৪০ জন বন্দির মুক্তির আদেশ দেন। তিনি দেশের বিভিন্ন সংশোধনাগার ও কারাগার থেকে এই বন্দিদের ছাড়ার অনুমোদন প্রদান করে, তাদের বকেয়া আর্থিক দায়-দায়িত্বও পরিশোধের প্রতিশ্রুতি জানান। বকেয়া জরিমানা ও আর্থিক শাস্তি মওকুফ করা হলে বন্দিরা আর্থিক বোঝা ছাড়াই সমাজে পুনরায় সংযুক্ত হতে পারবেন। এই ব্যবস্থা তাদেরকে রমজান মাসে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ দেয় এবং পরিবারকে কিছুটা স্বস্তি প্রদান করে।

দুবাইয়ের শাসক, একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম দুবাইয়ের সংশোধনাগার থেকে ১,৮৫৬ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন। এই সংখ্যাটি দুবাইয়ের বিভিন্ন জেল ও সংশোধনাগারে থাকা বিদেশি ও স্থানীয় বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত। দুবাইয়ের সংশোধনাগার থেকে মুক্তি প্রাপ্তদের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যাতে তারা কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ সুবিধা পেতে পারে। রমজানের এই বিশেষ সময়ে মুক্তি দেওয়া তাদেরকে সামাজিক পুনঃসংহতিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শারজাহের শাসক এবং সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য শেখ ডক্টর সুলতান বিন মুহাম্মদ আল কাসিমি রমজানের প্রথম দিনেই ৪০৭ জন বন্দিকে মুক্তি দেন। শারজাহের এই পদক্ষেপটি রমজানের প্রথম দিনে ঘোষণা করা হয়, যা শারজাহের শাসককে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে তুলে ধরে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে স্থানীয় এবং বিদেশি দুজনই রয়েছে, যাদের নির্বাচন ভাল আচরণ ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

আজমানের শাসক, সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য শেখ হুমাইদ বিন রশিদ আল নুআইমি আজমান পুলিশ জেনারেল কমান্ডের সংশোধনাগার ও দণ্ড প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩৪ জন বন্দিকে ছাড়ার নির্দেশ দেন। আজমানের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, যেখানে মানুষ এই মানবিক উদ্যোগকে প্রশংসা করেছে। এই পদক্ষেপটি রমজানের পবিত্রতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণকে জোরদার করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

রাস আল-খাইমার শাসক এবং সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য শেখ সৌদ বিন সাকর আল কাসিমি ৪০৭ জন বন্দির মুক্তি ঘোষণা করেন। ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন সাকর আল কাসিমি এই সিদ্ধান্তের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্বে আছেন। রাস আল-খাইমার শাসক এই মুক্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুনর্বাসন কেন্দ্রের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুক্তি প্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয়তার মানুষ রয়েছে, যাদের নির্বাচন ভাল আচরণ ও মানবিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

ফুজাইরার শাসক শেখ হামাদ বিন মোহাম্মদ আল শারকি রমজান উপলক্ষে ১২৫ জন বন্দিকে ক্ষমা করেন। ফুজাইরার শাসক উল্লেখ করেন, এই দয়া প্রদর্শন দেশের সামাজিক সংহতি বাড়াবে এবং রমজানের পবিত্রতা আরও উজ্জ্বল করবে। এই বন্দিরা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এবং শাসনকালের ভাল আচরণ প্রদর্শনকারী হিসেবে চিহ্নিত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ব্যাপক সাধারণ ক্ষমা রমজানের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুসরণ করে, যা ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বের প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত। সরকার এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জোরদার করতে চায়। মুক্তি প্রাপ্তদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় কাজ চালু রয়েছে। এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের দয়া প্রদর্শন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমিরাতের মানবিক চিত্রকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments