ভারত এ টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে চতুর্থ জয় নিশ্চিত করেছে, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ১৭ রানের পার্থক্যে জয়লাভের পর এখন সুপার ইটসে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখানোর লক্ষ্য রাখছে। কোচ রায়ান টেন ডোয়েসচেটের মতে দল এখনও ‘পারফেক্ট গেম’ খেলেনি, তবে সঠিক সময়ে শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই জয়টি দলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ডে যোগ হয়েছে, যদিও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ওভারে শিবম ডুবের ৬৬ রান প্রধান ভূমিকা পালন করে, যা দলের মোট স্কোরে বড় অবদান রাখে। তবে ওপেনার অভিষেক শর্মার তৃতীয় ধারাবাহিক ডাকের ফলে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ভারত এ মোট ১৭ রানে জয়লাভের পর পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
গ্রুপ পর্যায়ে ভারত এ অপরাজিত থাকলেও, কিছু ম্যাচে দলকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৭৭-৬ স্কোরে আটকে যাওয়ার পর সুর্যকুমার যাদবের অচল ৮৪ রান দলকে সেভ করেছে। এই রেসকিউ পারফরম্যান্স দলকে গ্রুপের শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
ইশান কিশানের অর্ধশতক রানও দলের জয়কে শক্তিশালী করেছে; তিনি নামিবিয়া এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অর্ধশতক পার করেছেন। তার স্থিতিশীলতা ওপেনিং পার্টনারের দুর্বলতা পূরণে সহায়ক হয়েছে। তবে অভিষেকের ধারাবাহিক ডাক দলকে উদ্বিগ্ন করেছে।
কোচ টেন ডোয়েসচেটের মন্তব্যে দেখা যায়, অভিষেকের নেটসের প্রশিক্ষণ ভালো হয়েছে এবং তিনি শীঘ্রই রিদমে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলটি অভিষেককে সমর্থন করে চলেছে।
টেন ডোয়েসচেট, যিনি ডাচ ক্রিকেটের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক, বলেন অভিষেক তার ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন এবং সাময়িক ফর্মের পতন স্বাভাবিক। তিনি যোগ করেন, অভিষেকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০২৪ সালে ডেবিউ থেকে ৪১ ম্যাচে ১৯২% এর বেশি স্ট্রাইক রেট রয়েছে, যা তার আক্রমণাত্মক ক্ষমতা নির্দেশ করে।
সুপার ইটসে ভারত এ প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা এ’র সঙ্গে পুনর্মিলন হবে, যা ২০২৪ সালের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। এই ম্যাচটি রবিবার আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হবে এবং দলকে শীর্ষ ফর্মে ফিরে এসে শিরোপা জয়ের পথে অগ্রসর হতে হবে। কোচের মতে, এখনই শীর্ষে পৌঁছানোর সময় এবং দলকে তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত এ গ্রুপ পর্যায়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রেকর্ড বজায় রেখেছে, তবে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবং মূল খেলোয়াড়দের ফর্ম উন্নত করা জরুরি। সুপার ইটসে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে দলকে আরও উচ্চতর স্তরে পৌঁছাতে হবে।



