সরকারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন আজ প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, রমজান মাসে ঈদ‑উল‑ফিতরের আগে “পরিবারিক কার্ড” বিতরণ শুরু হবে। এই উদ্যোগটি পাইলট পর্যায়ে চালু করে পরে সমগ্র দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিতরণ প্রক্রিয়া প্রথমে সীমিত সংখ্যক পরিবারকে লক্ষ্য করে পরীক্ষা করা হবে, সফলতা নিশ্চিত হলে ধীরে ধীরে অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হবে। পাইলট চালু হওয়ার পর সরকার সম্পূর্ণ রূপে সকল গৃহস্থালিকে এই সুবিধা প্রদান করতে চায়।
এই সিদ্ধান্তটি আজ সেক্রেটারিয়েটের একটি উচ্চস্তরের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আলোচনা শেষ হয়েছে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি এই পরিকল্পনার কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
“পরিবারিক কার্ড” প্রকল্পটি শাসনকালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি মূল অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া এই সুবিধা এখন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
মন্ত্রীর মতে, আর্থিক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যা প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। এই কমিটি নীতি নির্ধারণ, তহবিল বরাদ্দ এবং বিতরণ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে।
প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে, সকল পরিবারকে ধীরে ধীরে এই কার্ডের আওতায় আনা। মন্ত্রী জাহির স্বপন উল্লেখ করেছেন, কোনো বয়স, আয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টুও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে স্পষ্টভাবে এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং সরকার ইতিমধ্যে কার্যকরী পদ্ধতি নির্ধারণে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মিন্টু আরও জানান, কমিটি কাঠামো চূড়ান্ত করার পর বিতরণ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু হবে। প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এরপর সাধারণ দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বিতরণ প্রক্রিয়ার সময়সূচি ও মানদণ্ড নির্ধারণে কমিটি আর্থিক মন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রমজান মাসের শেষের দিকে প্রথম ব্যাচের কার্ড বিতরণ শুরু হবে, যা ঈদ‑উল‑ফিতরের আগে সম্পন্ন হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে সরকারী বাণিজ্যিক নীতি ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখছেন। নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি পূরণে এই উদ্যোগের সফলতা সরকারকে ভোটারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সমর্থন অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোও এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি তুলতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে সরকার এই প্রকল্পকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে চালু করার দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।
সারসংক্ষেপে, রমজানের আগে “পরিবারিক কার্ড” বিতরণ শুরু হওয়া দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে, যা ধীরে ধীরে সকল গৃহস্থালিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।



