জাপানের জে.লিগ এই মৌসুমে ড্র ফলাফলকে সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া “J1 100 Year Vision League” সিজনে, সমান স্কোরে শেষ হওয়া ম্যাচগুলো অতিরিক্ত সময় ছাড়াই শুটআউটে যায়, যেখানে জয়ী দল দুই পয়েন্ট পায় এবং পরাজিত দল এক পয়েন্ট পায়। এই পরিবর্তনটি লিগের ইউরোপীয় সময়সূচিতে রূপান্তরের একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে এটি আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে জাতীয় দলের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
জাপানীয় জাতীয় দল, যাকে “সামুরাই ব্লু” বলা হয়, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে রাউন্ড অফ ১৬ পার হতে না পারার পর থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্য স্থির করেছে। গত চারটি টুর্নামেন্টের মধ্যে তিনবার রাউন্ড অফ ১৬-এ বাদ পড়েছে, যার মধ্যে দু’বার পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত হয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে শুটআউটে ৩-১ হারে দলটি বড় ধাক্কা পেয়েছিল, যদিও নিয়মিত সময়ে তারা এগিয়ে ছিল। এই ইতিহাসের আলোকে, পেনাল্টি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য শুটআউটকে নিয়মিত অনুশীলনের অংশ করা হয়েছে।
জে.লিগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার সাবুরো কাওবুচি এই পরিবর্তনকে “জাপান পেনাল্টিতে দুর্বল” বলে উল্লেখ করে, এবং নিয়মিত অনুশীলনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি নিয়মিত শুটআউট না করা হয়, তবে জয় অর্জন করা কঠিন।” এই মন্তব্যের পর থেকে লিগের খেলোয়াড়রা শুটআউটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।
গত মৌসুমে ড্র ফলাফল কম ছিল; মোট ম্যাচের এক চতুর্থাংশের কমই ড্র হয়েছিল। তবে বর্তমান সিজনের প্রথম দুই রাউন্ডে ২০টি ম্যাচের অর্ধেকই সমান স্কোরে শেষ হয়েছে, ফলে শুটআউটের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। শুটআউটে জয়ী দল দুই পয়েন্ট পায়, আর পরাজিত দল এক পয়েন্ট পায়, যা লিগের পয়েন্ট সিস্টেমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রথম সপ্তাহের ওসাকা ডার্বিতে ৪২,০০০ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। গাম্বা ওসাকা ও সেরেজো ওসাকা ০-০ সমান স্কোরে শেষ হওয়ার পর শুটআউটে গাম্বা জয়ী হয়, ফলে দুই পয়েন্ট পায়। গেমের বিশ্লেষণে দেখা যায় গাম্বা অধিকাংশ সময়ে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তবে শুটআউটে তাদের দক্ষতা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করেছে।
গাম্বা ওসাকার ভক্ত হিরো তানাকা শুটআউটের আগে থেকেই পেনাল্টি নিয়ে ভাবছিলেন এবং ম্যাচের শেষের দিকে দর্শকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বাড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, “শুটআউটের আগে পেনাল্টি নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম, এবং জয় পেয়ে আনন্দিত হলাম, কারণ নিয়মিত সময়ে আমরা ০-০ ড্র নিয়ে বাড়ি ফিরতাম।” তার মন্তব্যে ভক্তদের মধ্যে শুটআউটের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।
এক সপ্তাহ পর গাম্বা আবার ড্র ফলাফল নিয়ে শুটআউটে মুখোমুখি হয়, তবে এইবার নাগোয়া গ্রাম্পাসের হাতে পরাজিত হয়। নাগোয়া গ্রাম্পাস দুই ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট সংগ্রহ করে লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে। গাম্বার এই পরাজয় শুটআউটের অনিশ্চয়তা এবং প্রতিটি শুটআউটের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।
শুটআউটকে নিয়মিত অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে খেলোয়াড়দের পেনাল্টি দক্ষতা বাড়ছে, যা জাতীয় দলের জন্যও উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্যায়ে জাপানি খেলোয়াড়রা শুটআউটে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারবে।
লিগের এই অস্থায়ী পরিবর্তনটি শুটআউটের মাধ্যমে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং দর্শকদের জন্য নতুন রোমাঞ্চের সুযোগ তৈরি করেছে। শুটআউটের ফলাফল অনুযায়ী পয়েন্ট বণ্টন লিগের র্যাঙ্কিংকে প্রভাবিত করছে, ফলে দলগুলো শুটআউটের প্রস্তুতিতে আরও মনোযোগ দিচ্ছে।
আগামী সপ্তাহে জে.লিগের শিডিউলে গাম্বা ওসাকা আবার নাগোয়া গ্রাম্পাসের মুখোমুখি হবে, যেখানে দুই দলই শুটআউটের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে পয়েন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে, সেরেজো ওসাকার পরবর্তী ম্যাচে শুটআউটের প্রভাব কী হবে তা ভক্তদের নজরে থাকবে।
এই পরিবর্তনটি জাপানের ফুটবল সংস্কৃতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে পেনাল্টি শুটআউটকে কেবল ম্যাচের শেষ নয়, প্রশিক্ষণ ও কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হবে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি স্থায়ী হবে কিনা তা লিগের পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।



