নীরজ পাণ্ডে সম্প্রতি দাখিল করা এক শপথপত্রে জানিয়েছেন যে, মণোজ বাজপেয়ের ছবির পূর্বের শিরোনাম ‘গোষ্কর পাণ্ডাট’ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আর কোনো রূপে ব্যবহার করা যাবে না। নতুন শিরোনাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা পূর্বের শিরোনামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বা সমানার্থক হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
শপথপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্বে ‘গোষ্কর পাণ্ডাট’ নামে প্রচারিত পোস্টার, ট্রেলার ও অন্যান্য প্রচারমূলক সামগ্রী সবই প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নতুন শিরোনাম নির্ধারিত হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রচার কার্যক্রম চালু রাখা হবে না। এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্রের বর্ণনা ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শিরোনাম নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
‘গোষ্কর পাণ্ডাট’ শিরোনামটি সম্প্রতি কাস্ট-ভিত্তিক আপত্তি উত্থাপন করে সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। কিছু গোষ্ঠী এটিকে জাতিগত বৈষম্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখায়, ফলে চলচ্চিত্রের মুক্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কের পর মণোজ বাজপেয়ের দল শিরোনাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে।
একই সময়ে বিহারের একটি মন্ত্রীও অন্য একটি চলচ্চিত্রের শিরোনাম ‘যাদব জি কি লাভ স্টোরি’ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিগত সূচক শিরোনামগুলো সমাজে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং পূর্বে অনুরূপ মামলাগুলো আদালতে চলমান রয়েছে। এই মন্তব্যটি জেডি(ইউ)র জাতীয় মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
চলচ্চিত্র সনদকর্তা সিবিএফসি (CBFC)ও সাম্প্রতিক সময়ে এক অন্য বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। অনুরাগ কাশ্যাপের ‘কেনেডি’ ছবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখ মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুসারে ছবির সংশ্লিষ্ট অংশে সংশোধন আনা হবে।
শিরোনাম ও বিষয়বস্তুর সংবেদনশীলতা নিয়ে এই ধারাবাহিক ঘটনা ইঙ্গিত করে যে, ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নামকরণ সংক্রান্ত বিতর্ক বাড়ছে। সামাজিক গোষ্ঠীর অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা না করলে চলচ্চিত্রের মুক্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ফিল্ম নির্মাতারা এখন শিরোনাম নির্বাচনকালে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তারা বিষয়বস্তুর মূল সত্তা বজায় রেখে এমন নাম বেছে নিতে চাচ্ছেন যা কোনো গোষ্ঠীর প্রতি আপত্তিকর না হয়। এই পরিবর্তনটি শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সিবিএফসির মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও শিরোনাম যাচাই করে সামাজিক সাদৃশ্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্দেশনা চলচ্চিত্রের সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করবে।
সারসংক্ষেপে, নীরজ পাণ্ডের শপথপত্রে ‘গোষ্কর পাণ্ডাট’ শিরোনাম প্রত্যাহার এবং নতুন শিরোনাম নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি চলচ্চিত্র শিল্পে নামকরণ সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে বিহারের শিরোনাম আপত্তি এবং সিবিএফসির ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখ মুছে ফেলার আদেশও এই প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা যায়। শিল্পের সকল অংশীদারকে এখন থেকে আরও বিচক্ষণভাবে শিরোনাম ও বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে হবে, যাতে সামাজিক সমন্বয় বজায় থাকে এবং সৃষ্টিশীলতা বাধা না পায়।



