সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সভায় জানিয়েছেন যে, ভারতীয় ভিসার সকল ধরণ শীঘ্রই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে এবং ভ্রমণ ভিসা সহ অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘোষণার সময় দাস মহোদয় জানান যে, ভিসা প্রক্রিয়ার দ্রুত স্বাভাবিকীকরণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে, যাতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভিসা প্রদান ক্ষেত্রে কোনো বাধা না রেখে উভয় দেশের নাগরিকের চলাচল সহজতর করা হবে।
বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, দাস মহোদয় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে মেডিকেল ভিসা ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা ছাড়া অন্যান্য ধরণের ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল, তবে এখন সেগুলো পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, ভ্রমণ ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসা এবং শিক্ষার্থী ভিসা সহ সব বিভাগে দ্রুত পরিষেবা প্রদান করা হবে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের এই বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে দাস মহোদয় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার জন্য ভিসা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকীকরণ কেবল পর্যটন নয়, বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-এ ঘটিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সময়ে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে ভিসা প্রদান সীমিত করে দেয়, যা দুই দেশের নাগরিকের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এই সীমাবদ্ধতা মূলত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক উদ্বেগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।
সেই সীমাবদ্ধতার ফলে, পূর্বে প্রচলিত পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ হ্রাস পেয়েছিল, এবং শিক্ষার্থীদের জন্যও ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছিল। তবে দাস মহোদয়ের নতুন ঘোষণার মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে দূর করার সংকেত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা হ্রাসের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে মানুষ-জনের সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর ভিসা নীতি সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ভারত-বাংলাদেশের ভিসা সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কিছু দেশ ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়িয়েছে। দাস মহোদয়ের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনের সূচক হিসেবে দেখছেন।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকীকরণ কেবল কূটনৈতিক সংকেত নয়, বরং বাণিজ্যিক লেনদেন ও মানবিক বিনিময়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধাপটি উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দাস মহোদয় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন যে, স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং সম্পূর্ণ ভিসা সেবা পুনরায় চালু হবে। তিনি জানান, এই সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ ও প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের মাধ্যমে সেবা গতি বাড়াবে।
ভিসা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকীকরণে সফলতা অর্জিত হলে, পর্যটন শিল্পে উল্লেখযোগ্য উত্থান প্রত্যাশিত। বিশেষ করে সিলেটের ইলিশের মতো স্থানীয় পর্যটন গন্তব্যে বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে, দুই দেশের মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরায় সক্রিয় হবে এবং রপ্তানি-আমদানি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে, ভারতীয় ছাত্রদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বৃদ্ধি পাবে, যা উভয় দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশি ছাত্রদের জন্যও ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ সহজ হবে, যা জ্ঞান বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে।
দাস মহোদয় শেষ কথায় উল্লেখ করেন যে, স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো নিয়মিতভাবে সমন্বয় সভা করবে, যাতে ভিসা নীতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সমন্বয় করা যায়। তিনি আশাবাদী যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক বন্ধন আরও মজবুত হবে।
সারসংক্ষেপে, সিলেটের ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ভিসা প্রক্রিয়ার দ্রুত স্বাভাবিকীকরণ দুই দেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবনের মূল চাবিকাঠি হবে। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন উভয় দেশের নাগরিকের চলাচল সহজ করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



