30 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রামে গরুর মাংসের দাম শবে‑বরাতের পর এক কেজি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে

চট্টগ্রামে গরুর মাংসের দাম শবে‑বরাতের পর এক কেজি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে

শবে‑বরাতের পর থেকে চট্টগ্রাম শহরের প্রধান বাজারগুলোতে গরুর মাংসের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। হাড়‑বিহীন ও হাড়‑সহ দু’ধরনের মাংসের কেজি দামে প্রায় ৫০ টাকা করে বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা রমজান মাসে গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

গতকাল জহাউতলা বাজারে হাড়‑বিহীন গরুর মাংসের দাম এক কেজি ১,০০০ টাকা, আর হাড়‑সহ মাংসের দাম প্রায় ৮০০ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধি পূর্বের গড় দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য, যা স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজারের কিছু অংশে দামের পার্থক্যও স্পষ্ট, যেখানে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত হ্রাস বা বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ বাজারে দামের এই ওঠানামা গ্রাহকদের জন্য সামান্য সান্ত্বনা প্রদান করে না, কারণ মূল দামের স্তর এখনও উচ্চ সীমায় রয়েছে।

বহদ্দারহাট বাজারে আজ সকালে হাড়‑বিহীন গরুর মাংসের দাম ৯৫০ টাকা, যা এক মাস আগে ৯০০ টাকা ছিল। এই ৫০ টাকার বৃদ্ধি রমজানের প্রথম সপ্তাহে গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যাঁরা দৈনন্দিন খাবারের জন্য গরুর মাংসের ওপর নির্ভরশীল।

বাজারে গৃহীত মতামত অনুযায়ী, শবে‑বরাতের পর থেকে গরুর মাংসের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গ্রাহকরা উল্লেখ করেছেন, রমজানে দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দাম বাড়ার ফলে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং অনেকেই বিকল্প খাবার খোঁজার দিকে ঝুঁকছেন।

চট্টগ্রামের অন্তত চারটি প্রধান বাজারে হাড়‑সহ গরুর মাংসের কেজি দামের পরিসীমা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কিছু ক্ষেত্রে ৮০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। হাড়‑বিহীন মাংসের দাম ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সমানভাবে প্রভাব ফেলছে।

রমজান উপলক্ষে কিছু পাড়া ও মহল্লায় গরু জবাই করা হয়েছে, যেখানে হাড়‑বিহীন মাংসের দাম ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে এই দামের সুবিধা সীমিত, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাড়‑সহ মাংসের সরবরাহই প্রধান, যা দামের পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

গ্রাহকদের মতে, গত কয়েক বছরে হাড়‑বিহীন গরুর মাংসের দাম ৭০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, এবং ২০২৪ সালে প্রথমবার এক হাজার টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বাজারে মাংসের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।

বিক্রেতারা স্বীকার করেন, উৎসবের সময় দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা সাধারণ প্রথা, যা গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে। তবে কিছু বিক্রেতা বাজার মূল্যের তুলনায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম দরে মাংস সরবরাহ করে, যাতে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি প্রদান করা যায়।

বিক্রেতাদের মতে, গরুর খাবারের খরচ বৃদ্ধি, বিশেষ করে খামারে ফিডের দাম বাড়ার ফলে গরুর মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এই ব্যয়বৃদ্ধি সরাসরি বাজারে বিক্রয় মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

চট্টগ্রাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও ট্রেডিং কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি দেশের মাংস বাজারের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, ফিডের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত গরুর মাংসের দাম উচ্চ স্তরে থাকতে পারে, এবং রমজান শেষে চাহিদা কমলে সাময়িকভাবে দামের স্বল্পমেয়াদী হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

সারসংক্ষেপে, শবে‑বরাতের পর চট্টগ্রামে গরুর মাংসের দাম দ্রুত বাড়ার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে, বিক্রেতারা ফিডের ব্যয়বৃদ্ধি এবং উৎসবের চাহিদা বৃদ্ধিকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। বাজারের দামের এই প্রবণতা রমজান শেষে কিছুটা শিথিল হতে পারে, তবে ফিডের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ দামের ঝুঁকি রয়ে যাবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments