32 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দফতরে তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দফতরে তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনেই গৃহমন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ে তিনটি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি সকালবেলা প্রধানমন্ত্রীর নিজ দফতরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। তিনজনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সামরিক কৌশল, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.) উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিরাপত্তা নীতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও প্রধানমন্ত্রীর আগমনে স্বাগত জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেন। উভয় কর্মকর্তা বৈঠকের প্রস্তুতি ও সমন্বয় কাজের দায়িত্বে ছিলেন।

বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম দিনেই সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সংকেত দেয়।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান দেশের সীমান্ত রক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। তিনি নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জাহাজ নির্মাণ ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্পর্কে আপডেট দেন। তিনি আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল প্রস্তাব করেন।

বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বিমানশক্তির আধুনিকায়ন, নতুন এয়ারক্রাফ্ট ক্রয় ও প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বিমানশক্তির ভূমিকা বাড়াতে সরকারী সমর্থন কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. একেএম শামছুল ইসলাম নিরাপত্তা নীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল, জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো ও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এই বৈঠকটি সরকার-সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নতুন সরকারের প্রথম দিনেই সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে।

অধিকন্তু, এই ধরনের উচ্চস্তরের বৈঠক ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি, প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে দ্রুততা আনতে পারে। সরকার-সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় বাড়লে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়।

বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য। তিনি সকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কাজের মাধ্যমে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য প্রকাশ করেন।

এই বৈঠকটি সরকার-সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা গড়ে তোলার একটি সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

৭১/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিনBanglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments