বাংলাদেশ সচিবালয়ে আজ তারেক রহমানের সরকার গৃহীত দ্বিতীয় কর্মদিবসে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ভদ্রতা সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সরকারী কর্মসূচি ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন। এই সফরটি তারেক রহমানের শাসনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সকালবেলা বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রধান দরজায় গিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান একত্রে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন। তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একসাথে ভদ্রতা সফরের সময় সংক্ষিপ্তভাবে সরকারী নীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন।
সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এই ভদ্রতা সফরে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ স্তরে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ভদ্রতা সফরের আগে, তারেক রহমান গোপন তথ্য সংস্থা (DGFI) ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (NSI) এর পরিচালক জেনারেলদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন। উভয় সংস্থার প্রধান কর্মকর্তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা তথ্যের আপডেট প্রদান করেন। এসব বৈঠক সরকারকে নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সকালবেলা প্রধানমন্ত্রীর একটি আন্তঃমন্ত্রিসভা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিবার কার্ড স্কিমের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। পরিবার কার্ড স্কিমটি সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে এবং দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে লক্ষ্য করে গৃহীত হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা স্কিমের কাঠামো, যোগ্যতা মানদণ্ড এবং বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিবার কার্ড স্কিমের মূল লক্ষ্য হল নিম্ন আয়ের পরিবারকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা। স্কিমের আওতায় প্রায় ১.৫ কোটি পরিবারকে সরাসরি উপকারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার এই উদ্যোগকে দারিদ্র্য বিমোচনায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।
দুপুর ২ টায় আরেকটি আন্তঃমন্ত্রিসভা বৈঠকের সময় পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা হবে। এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ প্রকল্পটি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধানরা রোপণ এলাকা, প্রজাতি নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন।
২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাবে। পরিকল্পনায় বনের পুনর্নবীকরণ, নগর গাছ রোপণ এবং কৃষি জমিতে শেড গাছ রোপণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই উদ্যোগটি দেশের সবুজায়ন ও বায়ু গুণমান উন্নত করার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ।
বৈঠকে নদী, খাল ও অন্যান্য জলের পথের খনন ও পুনঃখনন পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হবে। জলস্রোত পুনরুদ্ধার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই প্রকল্পগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সময়সূচি ও তহবিলের উৎস নির্ধারণের জন্য সমন্বয় করবেন।
সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভদ্রতা সফর সরকারকে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নীতি সমন্বয়ে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে এই প্রতিবেদনে কোনো মতামত বা অনুমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি; কেবলমাত্র ঘটনার বাস্তব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় কর্মদিবসে এই ধরনের উচ্চস্তরের বৈঠকগুলো সরকারী অগ্রাধিকারের স্পষ্টতা প্রকাশ করে। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের বৈঠকগুলোতে নিরাপত্তা, সামাজিক কল্যাণ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসাথে আলোচনা হয়েছে। সরকারী দিকনির্দেশনা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা স্পষ্ট হওয়ায় পরবর্তী ধাপগুলোতে দ্রুত অগ্রগতি আশা করা যায়।
এইসব বৈঠকের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আগামী দিনগুলোতে সরকারী প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।



