ড. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের পর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ঢাকা সফরে তার প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাক্ষাৎ করেন। এই অনুষ্ঠানটি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়। উভয় পক্ষের এই সাক্ষাৎকারের মূল উদ্দেশ্য নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণে সমর্থন প্রকাশ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা করা ছিল।
সাক্ষাৎকারে ড. খলিলুর রহমান এবং বালা নন্দ শর্মা পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং মহাপরিচালক ইশরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন। নেপাল সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিযুক্ত নেপালি রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন। উভয় দলের উপস্থিতি আলোচনার গুরুত্ব ও উভয় দেশের কূটনৈতিক বন্ধনের দৃঢ়তা নির্দেশ করে।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তারা উভয় দেশের বর্তমান বাণিজ্যিক লেনদেন এবং বিনিয়োগের পরিমাণ পর্যালোচনা করে, ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের উপায় খুঁজে বের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এছাড়া সীমান্ত পারাপার জ্বালানি প্রকল্প এবং আঞ্চলিক রেলওয়ে সংযোগের মতো অবকাঠামোগত উদ্যোগের সম্ভাব্যতা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে, পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং ঐতিহাসিক সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষই প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ককে বজায় রাখার গুরুত্ব ও অভিন্ন লক্ষ্যকে পুনর্ব্যক্ত করে। এই বন্ধুত্বের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
আলোচনার সময় উল্লেখ করা হয় যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনও বড় সম্ভাবনা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। উভয় দেশই এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা করে। বিশেষ করে পর্যটন ক্ষেত্রে উভয় দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদকে একসঙ্গে প্রচার করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
ড. খলিলুর রহমান এবং বালা নন্দ শর্মা উভয়ই তাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন যে কূটনৈতিক সহযোগিতা শুধুমাত্র সরকারী স্তরে নয়, জনগণকে সরাসরি উপকৃত করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক এবং কর্মশালার আয়োজনের প্রস্তাবও করা হয়।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য একটি যৌথ সমন্বয় কমিটি গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই কমিটি বাণিজ্যিক চুক্তি, জ্বালানি প্রকল্প এবং পর্যটন প্রচারমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি করবে বলে ধারণা করা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে রেলওয়ে ও সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়নেও সমন্বিত কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত থেকে নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণে সমর্থন জানান এবং নেপাল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রের সমন্বয় সম্ভব।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নেপালি রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারিসহ উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক কর্মী। তারা নেপাল সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশন এই বৈঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করেছে।
সারসংক্ষেপে, ড. খলিলুর রহমানের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আলোচনা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়। ভবিষ্যতে নির্ধারিত কর্মসূচি এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং পর্যটন ক্ষেত্রে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সর্বোচ্চ সুনিশ্চিত করা হবে।



