তারেক রহমান সরকার গৃহীত প্রথম দুই দিনের মধ্যে, সেক্রেটারিয়েটের প্রধান হল ঘরে সামরিক শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক পরিচালনা করেন। এই বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দ্বিতীয় কর্মদিবসের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানান। প্রতিটি শাখার প্রধানের সঙ্গে আলাপের সময় নিরাপত্তা কাঠামোর বর্তমান অবস্থা, সামরিক প্রশিক্ষণ, এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সকালেই তারেক রহমান ডিরেক্টর জেনারেল ডিএজিএফআই ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) এর প্রধানদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। উভয় সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ারিং, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এরপর তিনি একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়িক সভায় অংশ নেন, যেখানে পরিবারিক কার্ড স্কিমের কার্যকরী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এই স্কিমটি সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে লক্ষ্য রাখে, এবং সরকার এটিকে দ্রুত বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার দিয়েছে।
দুপুর ২ টায় আরেকটি আন্তঃমন্ত্রণালয়িক সভা নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে পাঁচ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি গাছ রোপণের বৃহৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা আলোচনা হবে। সভায় নদী, খাল, ও অন্যান্য জলের পথের খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জও পর্যালোচনা করা হবে। এই উদ্যোগগুলো পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।
বিপক্ষের দলগুলো, বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল, এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোকে সরকারের ক্ষমতা সংহত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তারা নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়কে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত কেন্দ্রীয়করণ হিসেবে উল্লেখ করে, এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের শুরুর দিনগুলোতে নিরাপত্তা শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা তার শাসনকালের স্থিতিশীলতা ও নীতি বাস্তবায়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে, বিরোধী পক্ষের উদ্বেগ যদি যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের দ্বিতীয় কর্মদিবসে নিরাপত্তা, সামাজিক কল্যাণ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। এই বৈঠকগুলো সরকারের অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে নীতি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



