বৃহস্পতিবার ওপেনএআই টাটা গ্রুপের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে ভারতের মধ্যে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার AI‑প্রস্তুত ডেটা সেন্টার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতে ক্ষমতা এক গিগাওয়াটে বৃদ্ধি করা।
চুক্তিটি টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেসের HyperVault ডেটা সেন্টার ব্যবসার প্রথম গ্রাহক হিসেবে ওপেনএআইকে নিয়োগ করে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা ব্যবহার করে, পরবর্তীতে ধীরে ধীরে স্কেল আপ করা হবে।
এই অংশীদারিত্বটি ওপেনএআইর বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যা দেশের দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে এন্টারপ্রাইজ ও অবকাঠামো উপস্থিতি শক্তিশালী করতে চায়। টাটার বিস্তৃত ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জিত হবে।
ওপেনএআই স্টারগেট প্রকল্পের আওতায় এই ডেটা সেন্টার গঠন করা হচ্ছে। স্টারগেটের মূল উদ্দেশ্য হল AI‑প্রস্তুত অবকাঠামো তৈরি এবং বিশ্বব্যাপী এন্টারপ্রাইজ গ্রহণ বাড়ানো।
HyperVault প্ল্যাটফর্মের প্রথম গ্রাহক হিসেবে ওপেনএআই, টাটার কর্মশক্তির মধ্যে ChatGPT Enterprise চালু করবে। এই সেবা কর্মচারীদের উৎপাদনশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
একই সঙ্গে ওপেনএআইর টুলস ব্যবহার করে AI‑নেটিভ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মানদণ্ডও টাটার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ফলে ডেভেলপাররা একীভূত পরিবেশে দ্রুত সমাধান তৈরি করতে পারবে।
এই চুক্তি “ওপেনএআই ফর ইন্ডিয়া” উদ্যোগের অধীনে বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের বাজারে কোম্পানির উপস্থিতি বিস্তৃত করতে লক্ষ্য রাখে।
সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানের মতে, ভারতের সাপ্তাহিক চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী সংখ্যা ১০ কোটি অতিক্রম করেছে। ব্যবহারকারীরা ছাত্র, শিক্ষক, ডেভেলপার ও উদ্যোক্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।
বৃহৎ ব্যবহারকারী ভিত্তি ভারতের জন্য ওপেনএআইর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির বাজার হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে কোম্পানি অবকাঠামো ও এন্টারপ্রাইজ বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় ডেটা সেন্টার ক্ষমতা ওপেনএআইকে সর্বোচ্চ মডেলগুলোকে দেশে চালানোর সুযোগ দেবে, ফলে ব্যবহারকারীর দিক থেকে লেটেন্সি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এছাড়া ডেটা রেসিডেন্সি, নিরাপত্তা ও সম্মতি সংক্রান্ত চাহিদা পূরণে দেশীয় হোস্টিং অপরিহার্য। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত সেক্টর ও সরকারি কাজের জন্য এই শর্তগুলো বাধ্যতামূলক।
ডেটা লোকালাইজেশন ও ডিজিটাল অবকাঠামো নীতিমালা মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশীয় প্রসেসিং সুবিধা প্রদান করে, যা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নিরাপত্তা বাড়ায়।
এই ধরনের পরিবেশে ওপেনএআইর সেবা গ্রহণকারী এন্টারপ্রাইজগুলো সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। ফলে সরকারী ও আর্থিক সেক্টরের গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণ বাড়বে।
অধিকন্তু, দেশীয় ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে ওপেনএআইকে নতুন এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, যারা ইন‑কান্ট্রি প্রসেসিংকে অগ্রাধিকার দেয়।
AI অবকাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে শক্তি চাহিদা অত্যন্ত বেশি; বড় মডেল প্রশিক্ষণ ও ইনফারেন্সের জন্য GPU ক্লাস্টারগুলো বিশাল বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাই ১০০ মেগাওয়াটের প্রাথমিক বিনিয়োগই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সময়সাপেক্ষে ক্ষমতা এক গিগাওয়াটে বাড়ালে, ওপেনএআই বিশ্বব্যাপী শীর্ষ AI পরিষেবা প্রদানকারী হিসেবে তার অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।
এই স্কেল‑আপের মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
অবশেষে, টাটার সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব ওপেনএআইকে ভারতের বাজারে দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যা স্থানীয় উদ্ভাবন ও ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



