কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় বুধবার রাত ১২টার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দুইটি স্বতন্ত্র অভিযানে মোট ৯,৮০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে এবং সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গুলিবর্ষণ ঘটেছে।
বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের সরাসরি নির্দেশে রামু সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালকের নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টহলদল হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেটের নিকট কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। রাত একটায় ৮-১০ জন সন্দেহভাজন মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা গেলে টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।
সন্দেহভাজনরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে টহলদলের ওপর তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ফাঁকা গুলি চালিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। গুলিবর্ষণের সময় সন্দেহভাজনরা বহনকৃত ইয়াবা ফেলে কেওড়া জঙ্গলে ছুটে যায় এবং গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নাফ নদী ও কেওড়া জঙ্গলের সংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলতে থাকে। বর্ডার গার্ডের দ্রুত কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে কয়েকজন সন্দেহভাজন নাফ নদীপথে পিছু হটে এবং ৪-৫ জন পশ্চিম দিকে গ্রামমুখী হয়ে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীর নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বর্ডার গার্ড তাদের ওপর অতিরিক্ত গুলিবর্ষণ না করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পলাতক সন্দেহভাজনদের সঙ্গে স্থানীয় একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী দলেরও গুলিবর্ষণ হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তা চায়।
অতিরিক্ত টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চৌধুরীপাড়া গ্রামে শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন করে। এরপর নাফ নদী ও তার পার্শ্ববর্তী বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অপারেশন দল ৭,১০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।
সামগ্রিকভাবে, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তে পরিচালিত দু’টি অভিযানের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ৯,৮০,০০০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ইয়াবা উদ্ধার হিসেবে রেকর্ড হয়।
বিকাল ১১টায় উখিয়া ব্যাটালিয়নের আরেকটি টহলদল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে একই রাতের আরেকটি অপারেশন চালায়, তবে সেই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
অধিকৃত ইয়াবা ও সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে স্থানীয় আদালতে হেফাজতে পাঠানো হবে। তদন্তের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর অর্পিত।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্তে মাদক পাচার রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে একই রকম অপারেশন বাড়িয়ে চলার পরিকল্পনা জানিয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে সংস্থা জোর দিয়েছে।



