রিও ডি জেনেইরোর বার্ষিক কার্নিভাল প্যারেড প্রতিযোগিতায় রঙিন নৃত্য ও সঙ্গীতের ঐতিহ্য অব্যাহত থাকলেও, এই বছর রাজনৈতিক উত্তেজনা মঞ্চকে ছায়া ফেলেছে। সাঁবা স্কুল ভিরাদোরো তার কিংবদন্তি ড্রাম ডিরেক্টরের প্রতি সম্মানসূচক উপস্থাপনা দিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে, তবে এক অন্য সাঁবা স্কুল, একাডেমিকোস দে নিটেরয়, ব্রাজিলের বর্তমান রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা’র জীবনকথা উপস্থাপন করে শেষ স্থানে নেমে আসে।
এই পারফরম্যান্সে লুলার শৈশবের গৃহহীন বালক থেকে শুরু করে জুতো পরিষ্কারকারী হিসেবে কাজ করা, এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্তের যাত্রা চিত্রিত হয়েছে। পারফরম্যান্সের নকশা ও সৃজনশীল দিকটি একাডেমিকোস দে নিটেরয়ের ডিজাইনার টিয়াগো মার্টিন্সের নেতৃত্বে তৈরি হয়, যিনি এটিকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন।
অবশ্যই, বিরোধী দলগুলো এই উদ্যোগকে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের প্রারম্ভিক ধাপ হিসেবে সমালোচনা করে। লুলা অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চতুর্থ মেয়াদী নির্বাচনের আগে এই ধরনের সম্মানসূচক প্রদর্শনীকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের প্রচেষ্টা বলে দাবি করে। এই উদ্বেগের ফলে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে লুলা’র রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়, তবে আদালত এসব মামলাকে প্রত্যাখ্যান করে।
বিরোধী দলগুলো পারফরম্যান্সটি বন্ধ করার জন্যও আবেদন করে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। লুলা নিজেই এই পারফরম্যান্সে অনুমোদন জানিয়ে, রিওয়ের বিশাল সাম্বাদ্রোমে হাজারো দর্শকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি পারফরম্যান্সের রাজনৈতিক তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
একাডেমিকোস দে নিটেরয়ের উপস্থাপনা শুধুমাত্র লুলার জীবনের গল্পই নয়, বরং অতীতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সমালোচনামূলক চিত্রায়ন করে। পারফরম্যান্সে প্রাক্তন ডানপন্থী নেতা জায়ার বোলসোনারোকে জোশের ক্লাউন হিসেবে জেলখানার পেছনে বসে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়। এই চিত্রটি বোলসোনারোর পুত্র ফ্লাভিও বোলসোনারোকে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যেখানে দুইটি বিরোধী দল পারফরম্যান্সটি বন্ধ করার অনুরোধ করেছিল।
সামাজিক মিডিয়ায়ও পারফরম্যান্সের কিছু অংশকে সমালোচনা করা হয়। একটি নৃত্য দলকে ‘সংরক্ষিত নিউকনসারভেটিভস’ শিরোনামে টিনের ক্যানের মধ্যে সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী পরিবার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা কিছু দর্শকের মতে খ্রিস্টীয় মূল্যবোধের প্রতি উপহাসের ইঙ্গিত দেয়। এই বিষয়গুলো সামাজিক নেটওয়ার্কে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
বিরোধ সত্ত্বেও, প্যারেডের ফলাফল ও রেটিং নির্ধারিত হয় এবং লুলার পারফরম্যান্স শেষ স্থানে র্যাঙ্ক করা হয়। এই ফলাফল ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট যে নির্বাচনের আগে এই ধরনের সাংস্কৃতিক ইভেন্টগুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনে লুলা চতুর্থ মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্য রাখছেন, আর বিরোধী দলগুলো এই পারফরম্যান্সকে তার নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের ভিত্তিতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মানসূচক সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা কমে যাওয়া দেখা যায়। তবে সামাজিক মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া ও বিরোধী দলের অব্যাহত সমালোচনা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, রিও কার্নিভালের এই বছরকার প্যারেড শুধুমাত্র সঙ্গীত ও নৃত্যের মঞ্চ নয়, বরং ব্রাজিলের রাজনৈতিক দৃশ্যের প্রতিফলনও হয়ে দাঁড়িয়েছে। লুলার জীবনের গল্পের মাধ্যমে সামাজিক অগ্রগতি ও দারিদ্র্যমুক্তি তুলে ধরার প্রচেষ্টা, পাশাপাশি বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা, ভবিষ্যৎ নির্বাচনী গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে সংস্কৃতি ও রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, এবং রিওয়ের সাম্বাদ্রোমে অনুষ্ঠিত এই পারফরম্যান্স সেই সংযোগের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।



