32 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনচানখারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের হাস্যরস ও ক্ষমতার চিত্রায়ণকারী নতুন চলচ্চিত্র প্রকাশ

চানখারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের হাস্যরস ও ক্ষমতার চিত্রায়ণকারী নতুন চলচ্চিত্র প্রকাশ

অ্যাকাশ হাকের পরিচালনায় তৈরি “দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চানখারপুল” শিরোনামের চলচ্চিত্রটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই কাজটি কমেডি ধারায় গড়ে উঠলেও, হাসির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবিক সমস্যাগুলোর গভীর বিশ্লেষণ লুকিয়ে আছে। চলচ্চিত্রটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনের ছায়া তুলে ধরে, যেখানে স্বাভাবিক রুটিনগুলো ধীরে ধীরে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ও প্রভাবের ছাপ পায়।

ফিল্মের মূল কাঠামোটি ছাত্রদের মধ্যে পদপদার্পণ ও আনুষ্ঠানিক আনুগত্যের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রতীক অর্জনের প্রচেষ্টা দেখায়। ছোটখাটো চালচলন, কৌশলগত বন্ধুত্ব এবং শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য করা পারফরম্যান্সগুলোকে চলচ্চিত্রটি সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে। এভাবে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতা একসাথে মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের রীতিনীতিকে এমন এক স্তরে নিয়ে যায় যেখানে সামান্য বিষয়গুলোও দমনমূলক রূপ নিতে পারে।

হাকের সৃজনশীল অনুপ্রেরণা দুটি ভিন্ন ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞতার তুলনা থেকে উদ্ভূত। তিনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরির ঘনিষ্ঠ, সীমাবদ্ধ পরিবেশকে সিক্কিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলকভাবে মুক্ত ও উন্মুক্ত পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে তিনি তার স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছিলেন। এই পার্থক্য চলচ্চিত্রের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা দর্শকদেরকে দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির পার্থক্য অনুভব করায়।

চানখারপুলের পাবলিক ক্যাম্পাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি প্রথা হল “গেস্ট রুম” সংস্কৃতি, যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের আধিপত্য প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট রীতি অনুসরণ করেন। এই রীতিগুলো প্রায়শই শোষণমূলক আচরণে পরিণত হয়, যা ছাত্রদের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে কোনো শক সৃষ্টি করে না। চলচ্চিত্রটি এই ধরনের নিয়মিত সহিংসতা ও শোষণকে উন্মোচন করে, যা দীর্ঘদিন ধরে অদৃশ্য রয়ে গিয়েছিল।

চলচ্চিত্রের কাস্টিংয়ে হাকের নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নির্বাচন করা হয়েছিল, যদিও তিনি তা আর্টিস্টিক নীতি হিসেবে নয়, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বেছে নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ছবির স্বাভাবিক আলোতে শ্যুটিং সম্ভব হয়েছে, যা আধুনিক উচ্চমানের প্রোডাকশনের তুলনায় বেশি বাস্তবধর্মী অনুভূতি প্রদান করে। প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে দৃশ্যগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে দর্শকরা যেন সরাসরি ক্যাম্পাসের পরিবেশে উপস্থিত।

অভিনয়শৈলীর দিক থেকে, ছবির চরিত্রগুলো এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে তারা বাস্তব জীবনের ছাত্রদের মতোই স্বাভাবিক ও প্রামাণিক দেখায়। এই স্বাভাবিকতা দর্শকের মনোযোগকে গল্পের মূল বিষয়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়, যা ক্ষমতার গঠন ও তার প্রভাবের বিশ্লেষণ। ছবির মাধ্যমে প্রকাশিত সামাজিক কাঠামো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে চলমান ক্ষমতার লড়াইকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়।

চলচ্চিত্রটি প্রকাশের পর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে, বিশেষ করে এর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবধর্মী চিত্রায়নের জন্য। হাকের কাজটি শুধুমাত্র বিনোদনমূলক নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করে, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, “দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চানখারপুল” একটি কমেডি ফিল্মের রূপে শুরু হলেও, তার পেছনে গোপন ক্ষমতার গতি, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানের রীতিনীতির গভীর বিশ্লেষণ লুকিয়ে আছে। হাকের এই কাজটি শিক্ষার পরিবেশে ক্ষমতার গঠনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, যা দর্শকদেরকে চিন্তা করার সুযোগ দেয়। ভবিষ্যতে এমন ধরনের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়নের পথে নতুন আলো দেখা যেতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments