32 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভারত এ ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখল পরিকল্পনা তীব্রভাবে সমালোচনা করে

ভারত এ ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখল পরিকল্পনা তীব্রভাবে সমালোচনা করে

ভারত এ এবং ইসরাইলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের মাঝেও, ইসরাইলের পশ্চিম তীর সম্প্রসারণের ইচ্ছা নিয়ে ভারত এ কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইলের নতুন পদক্ষেপের আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী সপ্তাহে ইসরাইল সফরে যাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত এ প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ১৯৬৭ সালের পর থেকে দখলে থাকা প্যালেস্টিনি অঞ্চল, যার মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমও অন্তর্ভুক্ত, তাদের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গঠন, পরিচয় ও অবস্থা পরিবর্তনের কোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই বিবৃতি ইসরাইলের পদক্ষেপকে শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরাইলের সরকার, নেতানিয়াহু নেতৃত্বে, পশ্চিম তীরের অধিকাংশ অংশে বসতি স্থাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পরিকল্পনা পূর্বে বহুবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ থেকে সমালোচিত হয়েছে, তবে ইসরাইলের দৃষ্টিতে এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

ভারত এ এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে, দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে তার ঐতিহাসিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারত এ দীর্ঘদিন ধরে প্যালেস্টিনি ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার জন্য দ্বিপাক্ষিক সমর্থন জানিয়ে আসছে এবং কোনো একতরফা পরিবর্তনকে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছে।

মোদি সরকারের অধীনে, ভারত এ এবং ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর হয়েছে। তবে, এই কৌশলগত বন্ধুত্বের পাশাপাশি, ভারত এ প্যালেস্টিনি জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করে চলেছে, যা তার বহুমুখী কূটনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে দেখা যায়।

মোদি ইসরাইল সফরে ইসরাইলের সংসদে ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগে তিনি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরতে পারেন, পাশাপাশি ইসরাইলের সাম্প্রতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের সম্ভাবনাও রয়েছে। ভারত এ এই সমন্বিত বিবৃতি তার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ইসরাইলের পশ্চিম তীর পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া তীব্র। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যা ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। এই আহ্বান গাজা অঞ্চলের মানবিক সংকট কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ে, গাজায় একটি স্বতন্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তাবও উঠে আসে। যদিও এই প্রস্তাবটি ব্যাপক সমালোচনা পেয়েছে, তবু এটি ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতি ও আঞ্চলিক গঠনকে প্রভাবিত করেছে।

ভারত এ এবং ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখতে, উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, পশ্চিম তীরের অধিগ্রহণের বিষয়ে ইসরাইলের দৃঢ় অবস্থান এবং ভারত এ’র ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দাবি এই সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মোদি সফর ইসরাইলের কূটনৈতিক মঞ্চে ভারত এ’র অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ হতে পারে, তবে একই সঙ্গে প্যালেস্টিনি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য তার অবস্থানকে দৃঢ় করতে হবে। এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি ভারত এ’র আন্তর্জাতিক নীতির মূল দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

সফরের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ভারত এ ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্যালেস্টিনি সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

সারসংক্ষেপে, ইসরাইলের পশ্চিম তীর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ভারত এ’র কঠোর নিন্দার মুখে পড়েছে, যদিও দুই দেশের কৌশলগত বন্ধুত্ব অব্যাহত রয়েছে। মোদি সফর এই দ্বিমুখী সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে প্যালেস্টিনি-ইসরাইল সংঘাতের সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments