32 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধ১৮ বছর বয়সী ফাহাদের দক্ষিণ আফ্রিকায় গন্তব্যে পৌঁছানোর পর মৃত্যু, পরিবার শোকাহত

১৮ বছর বয়সী ফাহাদের দক্ষিণ আফ্রিকায় গন্তব্যে পৌঁছানোর পর মৃত্যু, পরিবার শোকাহত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা গ্রামে বসবাসকারী ৪৫ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ তার ১৮ বছর বয়সী পুত্র ফাহাদকে দক্ষিণ আফ্রিকায় কাজের সুযোগের আশায় পাঠান। ফাহাদ ৩০ জানুয়ারি ঢাকার বিমানবন্দর থেকে রওনা হন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান। তবে একই রাতে নুর মোহাম্মদকে ফোনে জানানো হয় যে তার পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে।

নুর মোহাম্মদ একটি বেসরকারি বিমা সংস্থায় কর্মরত এবং তার দুই মামা দীর্ঘদিনের ব্যবসা চালিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করেন। মামাগণের ব্যবসা ও স্থায়ী উপস্থিতি ফাহাদের বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুত্রের স্বপ্নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নুর মোহাম্মদ তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হন।

ফাহাদের দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর জন্য নুর মোহাম্মদ প্রায় নয় লাখ টাকা ঋণ নেন এবং তা দালালদের মাধ্যমে প্রেরণ করেন। ঋণ গ্রহণের পেছনে বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির সহায়তা ছিল, তবে ঋণের মূল উৎস ও শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ফাহাদকে ইথিওপিয়া, সেখান থেকে জিম্বাবুয়ে এবং শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে দালালরা ইথিওপিয়া থেকে তাকে জঙ্গলের পথে জিম্বাবুয়ে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে সড়ক পথে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছান। এই পরিবর্তিত রুটের ফলে ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

ফাহাদ ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছানোর পরপরই নুর মোহাম্মদকে ফোনে জানানো হয় যে তার পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি রাতের সময়ে ঘটেছে।

বাবার মুখে শোকের অশ্রু বয়ে গিয়ে গলা বুজে যায়। তিনি বলেন, “আমি ছেলেকে কখনো কোনো অভাব দেখাইনি, তবে সে দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে চেয়েছিল, তাই ব্যবস্থা করেছি। এখন আমার ফাহাদ আর নেই।” তার কণ্ঠে গভীর দুঃখ ও হতাশা স্পষ্ট।

ফাহাদ স্থানীয় কাঞ্চনাবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন এবং এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল, তবে তিনি পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার শেষ মুহূর্তে শিক্ষার কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না।

ঘটনাটির পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং মামলাটি ফৌজদারি রেজিস্টারে নিবন্ধন করে। পুলিশ দালালদের সনাক্তকরণ, ঋণ গ্রহণের প্রমাণ সংগ্রহ এবং মানব পাচার সংক্রান্ত সম্ভাব্য অপরাধের দিকে নজর দেয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিভাগও সমন্বয় করে তথ্য আদানপ্রদান করছে।

অধিক তদন্তের মাধ্যমে দালালদের ভূমিকা, ভ্রমণ রুটের পরিবর্তন এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হবে। বর্তমানে কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে প্রমাণ সংগ্রহের পর উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবার শোকের মধ্যে আছে এবং নুর মোহাম্মদ ভবিষ্যতে কোনো ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় রয়েছেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments