অ্যানুরাগ কাশ্যাপের নতুন নীয়ো-নয়ার ‘কেনেডি’ আগামীকাল, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সব থিয়েটারে প্রদর্শনের সূচনা করবে। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সের্টিফিকেশন (CBFC) ‘এ’ সার্টিফিকেট প্রদান করে, তবে কিছু কাটাছাঁটের শর্ত আরোপ করেছে। এই শর্তগুলো পূরণ করে সিনেমা শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেশন পেয়েছে।
কেনেডি প্রথমবার ২০২৩ সালের ক্যান্স ফেস্টিভ্যালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্মোচিত হয়। একই বছর মুম্বাইয়ের জিও মামি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নীতা মুখেশ অম্বানি কালচারাল সেন্টারে বিশেষ স্ক্রিনিং হয়। ফেস্টিভ্যালের প্রশংসা পরবর্তী স্যান্সর প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করে।
ফেস্টিভ্যালের পর এক মাসের মধ্যে সিনেমা স্যান্সর বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়। ২৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে ‘এ’ রেটিংসহ সার্টিফিকেট জারি করা হয়। সার্টিফিকেটে চলচ্চিত্রের মোট দৈর্ঘ্য ১৪৮.৫৪ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে।
স্যান্সর বোর্ডের এক্সামিনিং কমিটি কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিবর্তনের দাবি করে। এই পরিবর্তনগুলো মূলত ভাষা, নাম এবং দৃশ্যের সংবেদনশীলতা নিয়ে। পরিবর্তনগুলো মেনে চললে সিনেমা মুক্তি পাবে।
প্রথম পরিবর্তন হিসেবে ‘মাদারফ*****’ শব্দটি সব সংলাপ এবং সাবটাইটেল থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এই শব্দটি মিউট করা হয়েছে যাতে দর্শকের কাছে অশ্লীলতা না পৌঁছায়।
চলচ্চিত্রে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের উল্লেখকে ‘পাম্প ট্রাম্প’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সরাসরি উল্লেখ এড়াতে করা হয়েছে।
দাওদ ইব্রাহিমের ছবি এবং ১৯৯৩ সালের উল্লেখসহ তার সংলাপ সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। তার স্থলে ‘পাকিস্তান ডন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে পরিচিত অপরাধীর চিত্রায়ন সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
প্রথমার্ধে ১৪ সেকেন্ডের একটি দৃশ্য, যেখানে ‘মাটুংগা, মাটুংগা… পুংগি বাজাও’ বাক্যটি রয়েছে, সেটি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দৃশ্যটি অশ্লীল ও অবমাননাকর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ধূমপানের দৃশ্যগুলোতে এখন একটি স্থির অ্যান্টি‑স্মোকিং বার্তা প্রদর্শন করতে হবে। এই বার্তা ধূমপানের ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখিত সব পরিবর্তন সম্পন্ন করার পর চূড়ান্ত সার্টিফিকেটে চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মূল কাহিনীর মূল কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
চলচ্চিত্রের প্রধান ভূমিকায় রাহুল ভাট এবং সানি লিওনি অভিনয় করেছেন। রাহুল ভাট এক্স-কমিশনারের চরিত্রে, আর সানি লিওনি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক চরিত্রে উপস্থিত।
কাহিনী কোভিড মহামারির সময়কালে মুম্বাই শহরে ঘটছে। এক্স-কমিশনারকে সবাই মৃত বলে মনে করলেও তিনি জীবিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত মুম্বাই কমিশনারের গোপন কাজ করে।
প্রধান চরিত্রটি একটি বিলাসবহুল অ্যাপ‑বেসড ক্যাব চালিয়ে গোপন মিশন সম্পন্ন করে। এই ক্যাবের মাধ্যমে তিনি শহরের অন্ধকার দিকের কাজগুলোতে যুক্ত হয়।
গুরুতর নগর থ্রিলার শৈলীর এই চলচ্চিত্রটি বাংলা দর্শকদের মধ্যে নতুন আলোচনার সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোভিডের পটভূমি এবং অপরাধমূলক থিমের সমন্বয় বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে।
সিনেমা আগামীকাল থেকে দেশের সব বড় বড় থিয়েটারে প্রদর্শিত হবে। দর্শকরা টিকিটের মাধ্যমে এই গথিক ন্যারেটিভ উপভোগ করতে পারবেন।
স্যান্সর বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নাম ও অপরাধীর চিত্রায়নের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ পরিবর্তে ‘পাম্প ট্রাম্প’ ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সরাসরি উল্লেখ এড়াতে সহায়ক।
দাওদ ইব্রাহিমের চিত্র মুছে ফেলা চলচ্চিত্রে অপরাধীর গৌরব বাড়ানো না হওয়ার নীতি অনুসরণ করে।\



