32 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনেত্রকোণার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনটি ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩৫ লাখ...

নেত্রকোণার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনটি ঘর পুড়ে ছাই, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩৫ লাখ টাকা

মদন থানা, নেত্রকোণা জেলার হাওরাঞ্চলের ফতেপুর ইউনিয়নের বনতিয়শ্রী গ্রামে বুধবার রাতের দিকে গ্যাস সিলিন্ডার ফাটার ফলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গ্যাসের বিস্ফোরণ দুই পরিবারের মোট তিনটি বাসা ধ্বংস করেছে এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনো প্রাণহানি রিপোর্ট করা যায়নি।

বনতিয়শ্রী গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী হাসনপুর ও দেওসহিলা গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে বিস্ফোরণটি মানিক মিয়ার বাড়িতে শুরু হয় এবং দ্রুতই লিংকন মিয়ার বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। দু’টি বাড়ি একসাথে জ্বলতে থাকে, ফলে গৃহস্থালির নগদ, ধান-চাল ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়।

মদন থানার তদন্তকারী সি.আই. উত্তম কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানিয়েছেন, গ্যাস সিলিন্ডার ফাটার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোর কাঠামো দুর্বল হওয়ায় দ্রুতই আগুন বাড়ি ছুঁয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয়দের তৎক্ষণাৎ আগুন নেভাতে চেষ্টা করা সত্ত্বেও শিখা নিয়ন্ত্রণে না আসায় তারা ফায়ার সার্ভিসকে জানায়।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি জানায়। মানিক মিয়া এবং লিংকন মিয়া উভয়েই উল্লেখ করেন, গ্যাস সিলিন্ডার ফাটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে আগুন লেগে যায় এবং তিনটি ঘর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। তাদের মতে, ঘরে থাকা নগদ টাকা, ধান-চাল এবং অন্যান্য সম্পদ পুরোপুরি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামটির যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় নেয়। দেরি হওয়ায় আগুনের তীব্রতা বাড়ে এবং সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিমাণ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বড় ধাক্কা পেয়েছে। মানিক মিয়া জানান, গ্যাস সিলিন্ডার ফাটার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে আগুন লেগে যায় এবং তিনটি ঘর পুড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, ঘরে থাকা নগদ টাকা, ধান-চাল ও আসবাবপত্র সবই ধ্বংস হয়েছে, ফলে তাদের জীবনের মৌলিক চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। দেরি হওয়ার প্রধান কারণ ছিল গ্রামটির দূরবর্তী অবস্থান এবং টেলিফোন সংযোগের অভাব, যার ফলে জরুরি সেবার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা মান যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে। মদন থানার সি.আই. উত্তম কুমার জানান, FIR দাখিল করা হয়েছে এবং গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা বিধি মেনে না চলা এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হতে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তারা গ্রামবাসীদের গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও তথ্য সেশনের আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি তদন্তের অধীনে রাখবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার এবং গ্রামাঞ্চলে জরুরি সেবা পৌঁছানোর সময়সীমা উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে মূল চাবিকাঠি হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments