মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় অবস্থিত শেষ কৌশলগত ঘাঁটি থেকে সমস্ত সৈন্য ত্যাগ করেছে এবং ঐ ঘাঁটি সরকারী হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি শেষের দিকে পৌঁছেছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা গঠনে নতুন দিক নির্দেশ করে।
সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) উত্থানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময়ে বাশার আল‑আসাদের শাসনামলে গৃহযুদ্ধের মাঝখানে, যুক্তরাষ্ট্র আইএসকে দমন করার লক্ষ্যে প্রায় দুই হাজার সৈন্য পাঠায়। এই ঘাঁটিগুলো মূলত আইএসের বিস্তৃত ভূখণ্ড দখল করা অঞ্চলগুলোতে স্থাপন করা হয়েছিল।
বছরের পর বছর ধরে ঘাঁটিগুলোর সংখ্যা কমে আসে এবং বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, এই সৈন্যদের প্রত্যাহার ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে, এবং ইতোমধ্যে একটি দল পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকি সৈন্যদের প্রত্যাহার পরিকল্পনা শিগগিরই কার্যকর করা হবে।
একজন উচ্চপদস্থ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, আইএসের হুমকি এখন পূর্বের তুলনায় কমে গেছে এবং সিরিয়ায় একটি স্থিতিশীল সরকার গঠিত হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি অনুযায়ী, এই ঘাঁটিগুলো থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা যুক্তিযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আইএসের সম্পূর্ণ নির্মূলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি অপরিবর্তিত থাকবে, তবে তা এখন বেশি করে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে করা হবে।
অফিসার আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের যেকোনো নতুন হুমকির মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত থাকবে। যদিও সিরিয়ায় আইএসের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি এই গোষ্ঠীর সম্ভাব্য পুনরুত্থানকে লক্ষ্য করে রক্ষামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখবে।
সিরিয়ায় ঘাঁটি হস্তান্তর কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। এই পদক্ষেপ রাশিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ তারা উভয়ই সিরিয়ার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘাঁটি হস্তান্তরের ফলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস পাবে, যা পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি ও সামরিক সহযোগিতার পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন করবে।
প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত পুনর্গঠন শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার সম্পদকে অন্য অগ্রাধিকারপূর্ণ অঞ্চলে পুনর্বিন্যাস করতে পারে, এবং সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকা বাড়বে। এই পরিবর্তন আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রতিরোধে নতুন নীতি গঠনে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার তার দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক লক্ষ্য এবং আইএসের হুমকির পরিবর্তিত প্রকৃতির প্রতিফলন। যদিও ঘাঁটি হস্তান্তর এবং সৈন্য প্রত্যাহার সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। এই পরিবর্তন সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক নির্ধারণ করবে।



