29 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আহ্বান

ড. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আহ্বান

ড. শফিকুর রহমান, সংসদের বিরোধী নেতা এবং জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের দাবি জানান। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং অতীতের স্বৈরাচারী চর্চা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এই প্রকাশনা দেশের মিডিয়া স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে এসেছে।

পোস্টের শিরোনাম ছিল জুলাই, যা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। ড. শফিকুর রহমান ১৭ বছরের সময়কে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করেন যে, এই সময়ে বর্তমান শাসক দল এবং তার নিজস্ব দল উভয়ই মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, এই অন্ধকার সময়ে ফিরে যাওয়া কোনো বিকল্প নয়।

রহমানের মতে, কেবল বিরোধী নয়, সরকারী পক্ষের সদস্যরাও মতপ্রকাশের ওপর চাপের মুখে পড়েছেন, যা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে। তিনি এই পারস্পরিক দমনকে একটি সিস্টেমিক সমস্যারূপে চিহ্নিত করে সমাধানের আহ্বান জানান।

তার বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা, যা তিনি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া জনসাধারণের তত্ত্বাবধান ও মুক্ত আলোচনা সম্ভব নয়, এ কথায় তিনি জোর দেন। সাংবাদিক ও সম্পাদকীয় স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেছেন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি, ড. শফিকুর রহমান ভিন্নমতকে দমন না করে স্বাগত জানানোর কথা বলেন, যা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। তিনি এই উন্মুক্ততা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে রূপান্তরিত করার জন্য সমষ্টিগত দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেন।

প্রকাশনায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করে সিস্টেমিক সংস্কারের ওপর জোর দেন, ফলে তার আহ্বানটি সকল রাজনৈতিক শক্তির জন্য প্রযোজ্য হয়। এই পদ্ধতি তার দলের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণকে প্রতিফলিত করে।

পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে, বহু ব্যবহারকারী শেয়ার ও মন্তব্যের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। জামায়াত-এ-ইসলামির সমর্থকরা তার মতামতকে প্রশংসা করেন, আর কিছু সমালোচক তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই অনলাইন বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক ধ্রুবককে প্রতিফলিত করে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই আহ্বান পার্লামেন্টে চলমান গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। শাসক দল যদি প্রস্তাবিত সংস্কার গ্রহণ করে, তবে সাংবাদিকদের সুরক্ষা বাড়াতে সংশোধনী আনা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, প্রতিরোধমূলক দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ড. শফিকুর রহমানের মন্তব্যের সময়সীমা এমন কিছু উচ্চপ্রোফাইল মামলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সাংবাদিক ও মিডিয়া আউটলেটগুলো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার হস্তক্ষেপ এই আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী কণ্ঠস্বর যোগ করেছে।

বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। গণতন্ত্রের সংস্কারকে সমর্থনকারী সংগঠনগুলো তার মতামতকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ নীতি উদ্যোগে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই সমন্বয় নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যতে, বিরোধী দলের অবস্থান সরকারকে নির্বাচনের পূর্বে গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে অগ্রগতি দেখাতে চাপ দিতে পারে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্পষ্ট উন্নতি শাসক দলের পারফরম্যান্সের মূল্যায়নের একটি মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে। ফলে, ড. শফিকুর রহমানের আহ্বান কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তবিক প্রভাবও রাখতে পারে।

আলোচনা অব্যাহত থাকায় মূল বিষয়টি হল রেটোরিক্যাল প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবিক পদক্ষেপে রূপান্তর ঘটানো। বাংলাদেশ কি সত্যিই ঐ অন্ধকার সময়ের পর্দা তুলে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারবে, তা সব রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারীর মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আসন্ন সপ্তাহগুলোতে এই আহ্বানের বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments