29 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টারা লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টারা লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত সপ্তাহে ক্ষমতায় থাকাকালীন গ্রহণ করা কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সরকারী দফতরে জমা দিয়েছেন। হস্তান্তরের মুহূর্তে তিনি সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং পাসপোর্টের ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দেন।

ড. ইউনূসের পাসপোর্ট হস্তান্তরের পর একই সপ্তাহে উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার বেশ কয়েকজনও তাদের লাল পাসপোর্ট সরকারকে ফেরত দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার স্তরে মোট প্রায় বিশজন কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

হস্তান্তরকৃত পাসপোর্টের তালিকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা (অব.) মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক‑ই‑আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন ও বস্ত্র‑পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। উভয়জনই সরকারী নথিপত্রে স্বাক্ষর করে পাসপোর্টের ব্যবহার বন্ধের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।

অবশিষ্ট কিছু উপদেষ্টা এখনও পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি। সরকারী সূত্রের মতে, তাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলকভাবে পাসপোর্ট ছেড়ে দিতে হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে বিদায়ী সরকারের সব কূটনৈতিক সুবিধা শেষ হয়ে যাবে।

বিদায়ী উপদেষ্টাদের মধ্যে লাল পাসপোর্ট হস্তান্তরকারী সংখ্যার বৃদ্ধি সরকারকে ইতিবাচক ইমেজ প্রদান করছে। বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্বে এই পদক্ষেপটি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার বার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, পাসপোর্টের হস্তান্তর প্রক্রিয়া ভোটের আগে শেষ করা হলে নতুন সরকারকে কোনো বিরোধের মুখে না ফেলা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, যারা এখনো পাসপোর্ট জমা দেননি, তাদের জন্য সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তারা ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলকভাবে পাসপোর্ট ছেড়ে দিতে হবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তি বা বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। এই নীতি প্রয়োগে সরকারী কর্মকর্তারা বলছেন, সময়ের সাথে সাথে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর বাড়বে।

কূটনৈতিক পাসপোর্টের ব্যবহার মূলত সরকারী ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক মিটিংয়ে সুবিধা প্রদান করে। হস্তান্তরের ফলে এই সুবিধা আর প্রযোজ্য হবে না, ফলে উপদেষ্টারা সাধারণ পাসপোর্টে ফিরে আসতে বাধ্য হবেন। এই পরিবর্তন সরকারী কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে বিদেশে চলমান প্রকল্প ও চুক্তিতে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর প্রক্রিয়া ভোটের পূর্বে সম্পন্ন হলে বিদায়ী সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে, নতুন সরকার গঠনের সময় উপদেষ্টাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা আইনি জটিলতা এড়াতে এই পদক্ষেপটি সহায়ক হবে।

সর্বশেষে, সরকারী সূত্র জানিয়েছে, হস্তান্তরকৃত পাসপোর্টের তালিকা আপডেট করা হচ্ছে এবং বাকি উপদেষ্টাদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments