ওপেনএআই এবং পাইন ল্যাবস বৃহস্পতিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে এআই‑চালিত যুক্তি পেমেন্ট ও ফিনটেক সেবার সঙ্গে একীভূত হবে। এই সহযোগিতা ভারতের দ্রুত বর্ধমান এআই বাজারে পেমেন্টের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়াতে লক্ষ্য রাখে। উভয় প্রতিষ্ঠান দাবি করে, নতুন সিস্টেম বিলিং, সেটেলমেন্ট এবং ইনভয়েস প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করবে।
ভারতকে প্রয়োগিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। ওপেনএআই দেশের বৃহৎ ডেভেলপার সম্প্রদায় এবং এক বিলিয়নেরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে তার প্রযুক্তি বিস্তৃত করতে চায়। এ ধরনের অংশীদারিত্ব শিক্ষা, এন্টারপ্রাইজ এবং অবকাঠামো ক্ষেত্রেও প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা নির্দেশ করে।
চুক্তির অধীনে পাইন ল্যাবসের পেমেন্ট ও কমার্স প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (API) সংযোজিত হবে। এই API গুলো বিদ্যমান সিস্টেমে এআই ফিচার যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয় রিকনসিলিয়েশন এবং ইনভয়েসিং সম্ভব করবে। ফলে ব্যবসায়িক লেনদেনের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। কোম্পানিগুলো আশা করে, এআই‑সহায়িত কাজের প্রবাহ গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়াবে।
ওপেনএআই সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল এবং ডিজাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে উচ্চশিক্ষায় এআই টুলের ব্যবহার শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দেশীয় ডেভেলপারদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই গ্রহণের পরবর্তী ধাপকে ত্বরান্বিত করা। একই সঙ্গে, পাইন ল্যাবসের অভ্যন্তরীণ এআই ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখিয়েছে।
পাইন ল্যাবসের সিইও বি. অমরিশ রাউ উল্লেখ করেন, এআই সিস্টেমের মাধ্যমে দৈনিক সেটেলমেন্টের সময় ঘণ্টা থেকে মিনিটে নামিয়ে আনা হয়েছে। পূর্বে বহু কর্মচারী ম্যানুয়াল চেক করে একাধিক ব্যাংকের তহবিল সমন্বয় করতেন, যা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এই অভ্যন্তরীণ স্বয়ংক্রিয়তা কোম্পানির অপারেশনাল দক্ষতা বাড়িয়েছে। ফলে কর্মশক্তি অন্যান্য কৌশলগত কাজে নিয়োজিত হতে পারছে।
এখন এই প্রযুক্তি পাইন ল্যাবসের গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছে প্রসারিত করা হবে। বিশেষ করে ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (B2B) সেক্টরে ইনভয়েস প্রক্রিয়াকরণ, সেটেলমেন্ট এবং পেমেন্ট অর্কেস্ট্রেশন সহজ হবে। এআই এজেন্টের মাধ্যমে ডেটা যাচাই ও রেকর্ড সংরক্ষণ স্বয়ংক্রিয় হবে। ফলে লেনদেনের ত্রুটি কমে যাবে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
কোম্পানিগুলো বিশ্বাস করে, B2B ওয়ার্কফ্লোতে এআই গ্রহণের গতি দ্রুত হবে। কারণ এই সেক্টরে বড় পরিমাণে ডেটা এবং জটিল লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা বেশি। এআই সমাধানগুলো এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর হতে পারে। ফলে ব্যবসায়িক পার্টনারশিপ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও পরিবর্তন আসবে।
ওপেনএআইয়ের এই পদক্ষেপ ভারতের এআই ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশীয় স্টার্টআপ এবং বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এআই টুলের মাধ্যমে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি করতে পারবে। পাইন ল্যাবসের পেমেন্ট অবকাঠামোতে এআই সংযোজন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবায়িত করবে। ভবিষ্যতে গ্রাহকরা দ্রুত, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ লেনদেনের সুবিধা পাবে।
এই অংশীদারিত্বের আরেকটি লক্ষ্য হল এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকে স্কেলযোগ্য করা। ওপেনএআইয়ের API গুলো বিভিন্ন ব্যবসা মডেলে সহজে সংযুক্ত করা যায়, যা বিস্তৃত গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে। পাইন ল্যাবসের বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাবে। ফলে নগদহীন অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এআই‑চালিত পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা দিকেও উন্নতি হবে। স্বয়ংক্রিয় রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া জালিয়াতি সনাক্তকরণে সহায়তা করবে। এছাড়া রিয়েল‑টাইম ডেটা বিশ্লেষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করবে। এই দিকগুলো আর্থিক সেবার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।
পাইন ল্যাবসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এআইকে কেবল অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় নয়, গ্রাহক সেবায়ও ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, বিক্রেতাদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ইনভয়েস জেনারেশন এবং রিয়েল‑টাইম পেমেন্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ধরনের সেবা ছোট ব্যবসার জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে। ফলে তাদের আর্থিক পরিচালনা সহজ হবে এবং ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে।
ওপেনএআই এবং পাইন ল্যাবসের এই যৌথ উদ্যোগ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির পরবর্তী ধাপকে চিহ্নিত করে। এআই সংযোজনের মাধ্যমে পেমেন্ট প্রক্রিয়া দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কম খরচে হবে। এই পরিবর্তন গ্রাহক, ব্যবসা এবং পুরো অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা বয়ে আনবে। উভয় সংস্থাই ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা এবং নতুন এআই সমাধান চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।



