বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা‑কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা‑বাদামতলা এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে একজন বিএনপি কর্মীর কুপি হত্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৬০ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীকে অপরাধীরা গুলি করে হত্যা করে, পরে তার দেহ ডোবা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা শেষে স্থানীয় মানুষ মৃতদেহটি ডোবা থেকে তুলে নিয়ে পুলিশকে জানায়।
ডোবা থেকে পাওয়া মৃতদেহটি পুলিশ দ্রুত উদ্ধার করে, পরে তা রায়পাশা‑কড়াপুর ইউনিয়নের দফতরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া এক বাইসাইকেল ও গলার মাফলারও তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী রায়পাশা‑কড়াপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপি শাখার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি বাজারে ইজারাদার ও গরু ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করতেন এবং তার পরিবার উত্তর কড়াপুর গ্রামে বসবাস করত। মৃতের পিতার নাম নজির চৌধুরী, যিনি পূর্বে একই এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
মৃত ব্যক্তি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে ছিলেন বলে জানা যায়। তার গৃহ থেকে বেরিয়ে শ্বশুরবাড়ির দিকে যাত্রা করার সময় অপরাধীরা তাকে গুলি করে। গুলি করার পর গুলি করা দেহটি ডোবা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়, যেখানে পরে স্থানীয় মানুষ তা আবিষ্কার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেলোয়ারের ব্যবহার করা বাইসাইকেল এবং গলার মাফলার রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। সাইকেল ও মাফলার দেখে তারা সন্দেহ করে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু করে এবং ডোবা থেকে মৃতদেহটি বের করে পুলিশকে জানায়।
রায়পাশা‑কড়াপুর ইউনিয়নের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আজাদী হাসনাত ফিরোজ উল্লেখ করেন, দেলোয়ারের দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। তিনি বলেন, দেলোয়ার দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী এবং পূর্বে মামলা‑হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক জমি নিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে।
বিমানবন্দর থানা ওসি মিজানুর রহমান জানান, অপরাধীরা দেলোয়ারকে মাথার বাম পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপি করে হত্যা করেছে। গুলি করার পর দেহটি ডোবা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়, যা পরে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে গুলি করা অস্ত্রের কিছু অংশ এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
মিজানুর রহমানের মতে, গুলি করা অস্ত্রটি ধারালো ধারযুক্ত এবং দেহে গুলি করার সময় ব্যবহার করা হয়েছে। গুলি করার সময় দেহের বাম পাশে স্পষ্ট কাটের চিহ্ন দেখা গিয়েছে, যা কুপি হত্যার ইঙ্গিত দেয়। তদন্তে এই অস্ত্রের ধরন ও ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।
দেলোয়ার পূর্বে কিছু মামলায় জড়িত ছিলেন এবং জমি‑জমার বিরোধে তার পরিবারে কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল বলে জানা যায়। তবে এই তথ্যগুলো এখনও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ—বাইসাইকেল, মাফলার, গুলি করা অস্ত্রের অংশ এবং ডোবা থেকে উদ্ধার করা দেহ—ইফসা (ফরেনসিক) বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফলাফল পাওয়া মাত্রই সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলে, সংশ্লিষ্ট পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে জানানো হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।



