29 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দর স্ট্রাইক ও নির্বাচনের পর কন্টেইনার লোডিং দ্রুত বাড়ছে

চট্টগ্রাম বন্দর স্ট্রাইক ও নির্বাচনের পর কন্টেইনার লোডিং দ্রুত বাড়ছে

চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘমেয়াদী কর্মী ধর্মঘট এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে দুই দিনের বন্ধের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। স্ট্রাইকটি জানুয়ারি ৩১ তারিখে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি ৩ তারিখে সম্পূর্ণ বন্ধের দিকে এগিয়ে যায়, এবং ৯ ফেব্রুয়ারি সকালের দিকে শেষ হয়। তবে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্য বন্দর পুনরায় বন্ধ থাকে, যা পুনরুদ্ধারকে সাময়িকভাবে ধীর করে দেয়।

স্ট্রাইকের ফলে বন্দর ও ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (ICD) তে প্রায় ৯,০০০ TEU কন্টেইনার জমা হয়। জানুয়ারি ৩১ তারিখে মোট সংরক্ষিত কন্টেইনার ৩১,০০০ TEU থেকে ফেব্রুয়ারি ১০ তারিখে ৪০,০০০ TEU-এ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে ১৯টি বেসরকারি ICD-তে রপ্তানি কন্টেইনারের স্টক প্রায় ১৪,০০০ TEU-এ পৌঁছায়।

স্ট্রাইক এবং লিজ চুক্তি নিয়ে নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনালকে ইউএই-ভিত্তিক DP World-কে দেওয়ার বিষয়টি মূল কারণ ছিল। এই বিরোধের ফলে বন্দর ও ICD-তে গতি কমে যায় এবং আমদানি-রপ্তানি শিপমেন্টে বিলম্ব দেখা দেয়। স্ট্রাইক শেষ হওয়ার পর দুই দিনই আমদানি ও রপ্তানি ডেলিভারিতে স্বল্প বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়, তবে নির্বাচনের বন্ধের আগে এই প্রবাহ আবার ধীর হয়ে যায়।

বন্দরের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচনের দিনেও কিছু শিপমেন্ট চালু রাখতে সক্ষম হয়। এই বিশেষ ব্যবস্থা সত্ত্বেও, পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে কয়েক দিন লেগে যায়।

ডেটা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনে বন্দর থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫,০০০ TEU আমদানি কন্টেইনার ডেলিভারির রেকর্ড রয়েছে। বিশেষ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেলিভারি ৩,৮৮৮ TEU, এরপরের দুই দিনে যথাক্রমে ৪,৪৮৪ TEU এবং ৪,৮৫৪ TEU বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেলিভারি ৫,২৬৩ TEU-এ পৌঁছায়, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।

বন্দরের আউটার অ্যানকোরেজে এক সময়ে ১৫টি কন্টেইনার জাহাজ অপেক্ষা করছিল, যার মধ্যে অনেক জাহাজ ছয় দিনের বেশি সময় ধরে লোডিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। এই জাহাজগুলোকে শেষ পর্যন্ত বন্দর টার্মিনালে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়, যা শিপিং লাইন ও রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি নিয়ে আসে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কন্টেইনার লোডিংয়ের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত। ব্যাকলগ কমে যাওয়ায় শিপিং কোম্পানিগুলি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারবে, ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত কমে যাবে। একই সঙ্গে, ডিপোতে সঞ্চিত কন্টেইনারের পরিমাণ হ্রাস পাবে, যা গুদাম খরচ কমাতে সহায়তা করবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি বন্দর পরিচালনা ও শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকে, তবে ভবিষ্যতে কন্টেইনার প্রবাহে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তবে DP World-কে টার্মিনাল লিজের বিষয়টি সম্পূর্ণ সমাধান না হলে আবার বিরোধের সম্ভাবনা রয়ে যায়, যা বন্দর কার্যক্রমে পুনরায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বাজারে ইতিমধ্যে এই উন্নতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে; রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয়ই দ্রুত শিপমেন্টের প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর শিল্পগুলো, যেমন টেক্সটাইল ও জিম্মা, এই স্বস্তি থেকে উপকৃত হবে।

সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে ব্যাকলগ কমিয়ে দৈনিক কন্টেইনার ডেলিভারিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে। যদিও স্ট্রাইক ও নির্বাচনের কারণে সাময়িক বন্ধের প্রভাব রয়ে গেছে, তবে বর্তমান প্রবণতা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে যদি শ্রমিক ও পরিচালনা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকে, তবে বন্দরকে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক গেটওয়ে হিসেবে তার ভূমিকা পুনরায় শক্তিশালী করতে প্রত্যাশা করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments