মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, গ্রাম উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে গৃহসচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে দেশের পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই দিনে আইন, ন্যায় ও সংসদীয় বিষয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সম্প্রতি একটি বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে এবং তা একটি বড় ঝড়ের মতো অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের পরপরই সবকিছু তৎক্ষণাৎ সঠিক হবে বলে আশা করা বাস্তবিক নয়।
ইন্টারিম সরকারের কাজকর্মের ওপর সাদা পত্র প্রকাশের প্রস্তাবের প্রশ্নে তিনি তা অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি যুক্তি দেন, বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব গ্রহণকারী সরকার মূলত গণতন্ত্রে রূপান্তরের দিকে মনোনিবেশ করেছিল এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইন্টারিম সরকারের কাজের প্রশংসা করে বলেন, তাদের সময়ে বহু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সেসবের জন্য যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের বৈধতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের অংশ না থাকা নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রেখেছে।
সরকারের আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনার পর স্পষ্ট হবে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যথাযথ সময়ে জানানো হবে।
অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিস্থিতি অতিরিক্ত নিন্দিত নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং মুদ্রা নীতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ব্যাংকিং খাতের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, পূর্বে প্রায় ধ্বংসের কাছাকাছি থাকা সেক্টরটি এখন অধিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা আরও উন্নত করা সম্ভব। তিনি যুক্তি দেন, সমন্বিত নীতি ও কার্যকর তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আর্থিক সেক্টরের পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেশের সমগ্র গঠনকে উল্লেখ করেন এবং জোর দেন, গণতান্ত্রিক নীতি সব সরকারি কার্যক্রমের ভিত্তি হবে। তিনি বলেন, এই নীতিগুলোকে মেনে চলা সরকারের সকল স্তরে অগ্রাধিকার পাবে।
আইন, ন্যায় ও সংসদীয় বিষয় মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিচারকরা সততা বজায় রাখতে হবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি প্রশাসনিক ও আইনি শাস্তির মুখোমুখি হবে।
মোঃ আসাদুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো বিচারক তার বেতন দিয়ে পরিবারিক খরচ মেটাতে না পারেন, তবে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা বিবেচনা করতে পারেন। তিনি এ ধরনের পরিস্থিতি বিচারিক স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বলে সতর্ক করেন।
দুই মন্ত্রীই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী এবং উল্লেখ করেন, সরকার এখনো গঠন পর্যায়ে থাকলেও নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রসর হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, গণতন্ত্রের ভিত্তিতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়ক হবে।



