18 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাঅমিনুল হক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অস্থিরতা প্রকাশ পায়

অমিনুল হক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অস্থিরতা প্রকাশ পায়

অমিনুল হক নতুন রাজ্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা প্রায় এক বছর অর্ধেকের অন্তর্বর্তী শাসনের সমাপ্তি চিহ্নিত করে। তার শপথ গ্রহণের মুহূর্তে ক্রীড়া খাতের স্থিতিশীলতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অন্তর্বর্তী শাসনকালটি পূর্বের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চলেছিল, যেখানে বহু প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা দেখা যায়। শাসনকালে স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে তা সীমিত রইল।

অনেক ক্রীড়া ফেডারেশন কার্যকরী না থেকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আটকে রইল। নির্বাচিত সংস্থার পরিবর্তে অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদী দিকনির্দেশনা স্পষ্ট না থাকায় গঠনমূলক অগ্রগতি ধীরগতিতে চলল।

এই অনিশ্চয়তা বিশেষত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। নেতৃত্বের ঘূর্ণন, শাসনগত বিরোধ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের ফলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অস্থির হয়ে ওঠে, যখন স্থিতিশীলতা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ছিল।

অন্তর্বর্তী শাসনের সময় কিছু সংস্কার ঘোষিত হলেও বাস্তবে তেমন কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। ৫০টিরও বেশি ফেডারেশনের জন্য সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করতে একটি অনুসন্ধান কমিটি মাসের পর মাস কাজ করেছিল। তবে এই প্রস্তাবনা সামনে আনার আগে আরেকটি কমিটি গঠন করে মডেল সংবিধান প্রস্তুত করা হয়, ফলে কাজের পুনরাবৃত্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

সংস্কার চূড়ান্ত হওয়ার আগে নির্বাচন নির্ধারিত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। নির্বাচনের সময়সূচি সংস্কার প্রক্রিয়ার সমাপ্তি অপেক্ষা না করে নির্ধারিত হওয়ায় শাসন কাঠামোর স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।

আগস্ট ৫, ২০২৪ তারিখে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বহু ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ বা বদলানো হয়, এবং কিছু সাধারণ সম্পাদক কার্যকরী না থেকে অচল হয়ে পড়ে। ফলে সংস্থাগুলি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না এবং তাদের পরিচালনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দেয়।

অনেক ফেডারেশন অস্থায়ী ব্যবস্থার অধীনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি ক্রীড়া খাতের সামগ্রিক উন্নয়নকে ধীরগতি করে তুলেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অস্থিরতা সবচেয়ে স্পষ্ট। নির্বাচনের সময় ব্যাপক সমালোচনা, বয়কট এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে। এই বিষয়গুলো সংস্থার স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

নেতৃত্বের পরিবর্তনও অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়; ফারুক আহমেদ থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল পর্যন্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিক পরিবর্তন সংস্থার অভ্যন্তরীণ গতি ব্যাহত করেছে। এই পরিবর্তনগুলো স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়ে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।

শাসনগত বিরোধের ফলে ক্লাবের অংশগ্রহণ এবং দেশীয় প্রতিযোগিতার সূচি প্রভাবিত হয়েছে। কিছু ক্লাবের অংশগ্রহণে বাধা দেখা দেয় এবং অভ্যন্তরীণ লিগের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হয়।

এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অমিনুল হকের দায়িত্ব গ্রহণ ক্রীড়া খাতের পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার নতুন দিক নির্দেশ করে। তবে এখনো স্পষ্ট যে, ধারাবাহিক সংস্কার, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচিত সংস্থার স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বশীল দলকে দ্রুতই অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্বাচিত সংস্থার কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে হবে, যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সব ফেডারেশন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ক্রীড়া খাতে পুনর্গঠন, শাসন কাঠামোর স্পষ্টতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া বর্তমান অস্থিরতা দূর করা কঠিন হবে। নতুন মন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা হবে, যা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments