বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হ্যাকিং সম্মেলন ডিফ কন বুধবার ঘোষণা করেছে যে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংযুক্ত তিনজনকে আর অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তটি সম্মেলনের নিরাপত্তা ও নৈতিক নীতিমালা মেনে নেওয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ব্যান তালিকায় প্যাব্লোস হোলম্যান, ভিনসেনজো ইওজ্জো এবং জোইচি ইতো অন্তর্ভুক্ত। এই তিনজনের নাম যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন তদন্তের ফাইলের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে।
ডিফ কন উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ফাইলের পাশাপাশি পলিটিকোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের ইমেইল আদানপ্রদান দেখানো হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সম্মেলন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
ইওজ্জোর প্রতিনিধিরা এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্পূর্ণ পারফরম্যান্সমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে। তিনি গত বিশ বছর ধরে ডিফ কনে খুব কমই উপস্থিত ছিলেন, তাই এই সিদ্ধান্তকে তাড়াহুড়া করে নেওয়া এবং কোনো তদন্তের অভাবে নেওয়া বলে দাবি করা হয়েছে।
ডিফ কন, হোলম্যান এবং ইতো এই মন্তব্যের ওপর কোনো মন্তব্য করেননি। তাদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই নিষেধাজ্ঞা কয়েক দিন আগে টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনের পর আসে, যেখানে বলা হয়েছিল যে সাইবারসিকিউরিটি সম্মেলন ব্ল্যাক হ্যাট এবং কোড ব্লু ইওজ্জোর নাম তাদের রিভিউ বোর্ডের তালিকা থেকে মুছে ফেলেছে। নতুন প্রকাশিত তথ্যের ফলে ইওজ্জোর এপস্টেইনের সঙ্গে সংযোগ পুনরায় আলোচনার মুখে পড়েছে।
ভিনসেনজো ইওজ্জো সাইবারসিকিউরিটি শিল্পের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি, বর্তমানে আইডেন্টিটি স্টার্ট‑আপ স্ল্যাশআইডির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিসেবে কাজ করছেন। তিনি পূর্বে তার নিজস্ব সাইবারসিকিউরিটি স্টার্ট‑আপ আইপারলেইন ২০১৭ সালে ক্রাউডস্ট্রাইকের হাতে বিক্রি করার পর সেই কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইওজ্জোর ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের এবং তিনি বিভিন্ন সাইবারসিকিউরিটি প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো পরিচয় যাচাই ও ডেটা সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি বিকাশে মনোনিবেশ করে।
তবে ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ইওজ্জো এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগ রাখার রেকর্ড পাওয়া গেছে। এই সময়ে এপস্টেইনকে মিডিয়ায় নতুন অভিযোগের মুখে দাঁড়াতে হয়, যার মধ্যে মিয়ামি হার্ডেলের রিপোর্টে তিনি বহু নারী ও শিশুর শোষণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এপস্টেইন ২০০৮ সালে যৌন অপরাধের জন্য দোষ স্বীকার করে এবং কম দণ্ডে সমঝোতা করেন, যা পরবর্তীতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডিফ কনের এই পদক্ষেপ সাইবারসিকিউরিটি ইভেন্টগুলোতে নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার সংকল্পকে প্রতিফলিত করে। এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সংযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে সাইবারসিকিউরিটি কমিউনিটি এই ধরনের বিষয়কে কীভাবে পরিচালনা করবে তা নজরে থাকবে, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।



