নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় প্লাটো রাজ্যের বাশার জেলায় অবস্থিত কামপানিন জুরাক সীসা খনিতে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটায় অন্তত ৩৮ শ্রমিকের মৃত্যু এবং ২৭ জনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। ঘটনাটি বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঘটেছে, যখন কর্মীরা খনির গহ্বরে কাজ করছিলেন।
স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শাসক আলহাজ্জি আলিয়ু আদামু ইদ্রিসের মতে, মৃতদের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহতদের বেশিরভাগই নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে, তবে শোকের পরিমাণ কমাতে যথেষ্ট নয়।
খনির কর্মী ইব্রাহিম দাত্তিজো সানির বর্ণনা অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি হঠাৎ ঘটেছিল এবং গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীরা গর্তের ভিতরে কাজ করছিলেন এবং বিস্ফোরণের ফলে গুহা ধসে পড়ে বহু শ্রমিককে আঘাত করে।
এই ধরনের শিল্প দুর্ঘটনা নাইজেরিয়ায় অস্বাভাবিক নয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে জামফারা রাজ্যের একটি অবৈধ খনিতে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় পাথর ধসে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছিল। উভয় ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
নাইজেরিয়ার মাইনিং ও সিলিকন রিসোর্সেস মন্ত্রণালয় ঘটনাস্থলে জরুরি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গ্যাস সনাক্তকরণ ও বায়ু মান পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, এই ধরনের ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হবে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীও এই ঘটনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “নাইজেরিয়ার খনি শিল্পে নিরাপত্তা মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে এমন ট্র্যাজেডি পুনরাবৃত্তি হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর জরুরি।
ইউনাইটেড নেশনসের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা সংস্থা (ILO) ইতিমধ্যে নাইজেরিয়ার মাইনিং সেক্টরের নিরাপত্তা মান পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করার ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থার প্রতিনিধিরা বলছেন, গ্যাস সনাক্তকরণ, জরুরি নিষ্কাশন পরিকল্পনা এবং কর্মীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক শ্রম মানের মৌলিক অংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা বিভাগও আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তহবিল সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছে, “মানবিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা একসাথে প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমে যাবে।”
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করলে, আফ্রিকায় খনি নিরাপত্তা সমস্যার সমাধানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০২২ সালে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটার পর কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হয়, যা এখন অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করছে।
নাইজেরিয়ার সরকার এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী দুজনেই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা মান উন্নয়নের জন্য তহবিল ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পরিকল্পনা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের পরিবেশ গড়ে উঠেছে, তবে একই সঙ্গে পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা সংস্কারের দাবি তীব্র হয়েছে। শ্রমিকদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা পুনরায় এমন দুর্যোগের মুখোমুখি না হওয়ার জন্য সরকারী পদক্ষেপের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন চাচ্ছেন।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে খনি পরিচালনাকারী সংস্থা ও সরকারী তদন্ত কমিটি ফলাফল প্রকাশ করবে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠন ও কর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এবং ত্রৈমাসিক নিরাপত্তা অডিটের ব্যবস্থা করা হতে পারে।



