ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি মালি সিংহাসন থেকে হস্তান্তর এবং ৯৯ বছরের লিজে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর বিরোধ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেন যে, এই ভূমি যুক্তরাজ্যের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হলে তা “আমাদের মহান মিত্রের জন্য দাগ” হয়ে দাঁড়াবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মঙ্গলবার লন্ডনের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মালি সিংহাসনে হস্তান্তরের প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ও মালি সিংহাসনের মধ্যে চুক্তি অনুসারে ডিয়েগো গার্সিয়া ৯৯ বছরের জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে লিজে ফেরত দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থনের পরেও ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি; তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে লিজের ধারণাকে “দেশের ক্ষেত্রে কোনো সমাধান নয়” বলে সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, ১০০ বছরের লিজ চুক্তি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থের বিপরীতে যায়।
এই বিবৃতি যুক্তরাজ্য ও মালি সিংহাসনের মধ্যে চলমান আলোচনার সময় প্রকাশ পায়, যেখানে আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মালি সিংহাসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে অতিরিক্ত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। উভয় পক্ষই ডিয়েগো গার্সিয়ার ভবিষ্যৎ ব্যবহারের বিষয়ে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করবে বলে জানা যায়।
ডিয়েগো গার্সিয়া চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ এবং ভারতীয় মহাসাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অবস্থিত। বর্তমানে এই দ্বীপটি যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর যৌথ ব্যবহারিক ঘাঁটি হিসেবে কাজ করে, যেখানে বিমানবন্দর ও নৌবাহিনীর সুবিধা রয়েছে।
চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাজ্য ডিয়েগো গার্সিয়া ৯৯ বছরের জন্য লিজে নেবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য বহন করে। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি জোর দেন যে, এমন দীর্ঘমেয়াদী লিজ চুক্তি স্বতন্ত্র দেশের স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
ট্রাম্প ডিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “এই দ্বীপটি ভারতীয় মহাসাগরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং আমাদের নিরাপত্তা কাঠামোর একটি মূল অংশ।” তিনি যুক্তরাজ্যের এই ভূমি হস্তান্তর পরিকল্পনাকে “বড় ভুল” হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং স্টারমারকে সতর্ক করেন যে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মিত্র দেশের নিরাপত্তা অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে ট্রাম্প উল্লেখ করে বলেন, “তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন এমন সত্ত্বার দাবির মাধ্যমে, যাদের পরিচয় আগে কখনো জানা যায়নি।” ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের পেছনে “ওয়োকিজম” এবং অন্যান্য রাজনৈতিক চাপের প্রভাব রয়েছে।
ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাজ্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে, “আমরা সর্বদা যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াব, তবে তাদেরকে শক্তিশালী থাকতে হবে এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ় থাকতে হবে” বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক ব্যবহারের বিষয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে।



