19 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানব্র্যাকিসেফালিক কুকুরের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে

ব্র্যাকিসেফালিক কুকুরের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে

ফ্রেঞ্চ বুলডগ, পাগ এবং অন্যান্য সমতল মুখের কুকুরের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রজাতিগুলোর চাহিদা তীব্র হয়েছে, ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর মনোযোগও বাড়ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন যে, কিছু ব্র্যাকিসেফালিক জাতের কুকুরের মাত্র এক দশমাংশের কমই স্বাভাবিক শ্বাস নিতে পারে।

ব্র্যাকিসেফালিক কঙ্কাল গঠন মানে মাথার হাড় সংক্ষিপ্ত হওয়া, যা শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে। ফলস্বরূপ কুকুরগুলোকে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাসের শব্দ জোরে হয় এবং নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। এই অবস্থা “ব্র্যাকিসেফালিক অবস্ট্রাকটিভ এয়ারওয়ে সিনড্রোম” (BOAS) নামে পরিচিত এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদয়-ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

পূর্বে পাগ এবং বুলডগের ওপর এই সিনড্রোমের তীব্রতা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, তবে অন্যান্য সমতল মুখের জাতের ওপর তথ্য সীমিত ছিল। নতুন গবেষণায় এই ফাঁক পূরণ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছিল, যাতে কুকুরের মালিক ও পশু চিকিৎসকরা সঠিকভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারেন। গবেষণার ফলাফল ১৮ ফেব্রুয়ারি PLOS One-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক দল সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে এপ্রিল ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় নয়শো কুকুরের ডেটা সংগ্রহ করেছে। এতে মোট চৌদ্দটি অতিরিক্ত ব্র্যাকিসেফালিক জাত অন্তর্ভুক্ত, যা পূর্বের গবেষণার তুলনায় বিস্তৃত পরিসর। প্রতিটি কুকুরকে মানকৃত ব্যায়াম পরীক্ষার মাধ্যমে শ্বাসের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং BOAS লক্ষণগুলোর উপস্থিতি অনুযায়ী ০ থেকে ৩ পর্যন্ত স্কেলে রেট করা হয়েছে।

স্কেলটি ০ মানে শ্বাসে কোনো বাধা নেই, আর ৩ মানে সর্বোচ্চ তীব্রতার শ্বাসজনিত সমস্যা নির্দেশ করে। পরীক্ষার সময় কুকুরের শ্বাসের শব্দ, শ্বাসের গতি এবং ব্যায়ামের পর শ্বাসের পুনরুদ্ধার ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফলাফল দেখায় যে, বেশিরভাগ ব্র্যাকিসেফালিক জাতের কুকুরে শ্বাসের সমস্যার মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চ স্তরে রয়েছে।

বিশেষভাবে দেখা গেছে, পেকিংইজের শ্বাসের সহজতা তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে তবুও তাদের মধ্যে মাত্র এক দশমাংশের কমই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শ্বাসের গ্রেড (গ্রেড ০) পেয়েছে। অন্যদিকে ফ্রেঞ্চ বুলডগ এবং পাগের ক্ষেত্রে গ্রেড ০-র হার প্রায় ১১ শতাংশের নিচে, যা শ্বাসজনিত সমস্যার ব্যাপকতা নির্দেশ করে।

এই গবেষণা কুকুরের প্রজনন নীতিতে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে। সংক্ষিপ্ত মুখের গঠনকে সৌন্দর্যের মানদণ্ড হিসেবে প্রচার করলে শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে, যা কুকুরের জীবনমানকে হ্রাস করে। পশু চিকিৎসক ও প্রজননকারীদের উচিত স্বাস্থ্যকর শ্বাসনালী বজায় রাখতে জেনেটিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত মুখের গুণাবলী বাদ দেওয়া।

মালিকদের জন্যও কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। কুকুরের শ্বাসে হঠাৎ পরিবর্তন, জোরে শুঁয়োয়া বা শ্বাসের সময় অস্বস্তি লক্ষ্য করলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা এবং উপযুক্ত ব্যায়াম শ্বাসের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে ব্র্যাকিসেফালিক কুকুরের স্বাস্থ্য রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিয়ে আপনার মতামত কী?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments