গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৯:৩০ টার দিকে এক জমি বিরোধের ফলে ৫০ বছর বয়সী নাহিদা বেগমের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি তার ২২ বছর বয়সী পুত্র মহিবুল্লাহ ওস্তার রক্ষায় নিজ প্রাণ উৎসর্গ করেন।
নাহিদা বেগমের স্বামী শারিফুল ওস্তা পূর্বে মৃত, তার পরিবার ও কাদের ওস্তার পরিবার বহু বছর ধরে একই জমি নিয়ে বিরোধে জর্জরিত। কাদের ওস্তা, শারিফুলের পুত্রের চাচাতো ভাই, উচ্চ আদালতের রায়ের পরও জমি দখল করে রেখেছেন।
প্রায় ছয় মাস আগে উচ্চ আদালত শারিফুলের পক্ষে রায় দেয়, তবে কাদের ওস্তা প্রভাব ব্যবহার করে দখল বজায় রাখেন। এই অবস্থা দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং শেষমেশ সহিংসতা রূপ নেয়।
৩১ জানুয়ারি শনিবার শারিফুলের পরিবারের সদস্যরা বিরোধপূর্ণ জমিতে বেড়া গড়ার কাজ শুরু করে। এ খবর পেয়ে কাদের ওস্তা ও তার পাঁচজন সহচর, পাশাপাশি কয়েকজন তরুণ, গিয়ে পরিবারকে হুমকি ও শারীরিক আক্রমণ করে।
রাত ৯ টার পর কাদের ওস্তার পুত্র ও অন্যান্য সহচর নাহিদা বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা নাহিদাকে গাছের ডাঁটা দিয়ে মারধর করে, ফলে তার মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাত লেগে যায়। নাহিদা আহত অবস্থায় তৎক্ষণাৎ গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তে নাহিদা বেগমের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দেহে মাথা সহ বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
মহিবুল্লাহ ওস্তা, যিনি টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, আঘাতের কারণে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, তার বাবা বহু বছর আগে মামলার গণ্ডগোলের মধ্যে মারা গেছেন এবং আদালতের রায় সত্ত্বেও জমি দখল করা সম্ভব হচ্ছে না।
মহিবুল্লাহ ন্যায়বিচার দাবি করে কাদের ওস্তা ও তার পরিবারকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার রাতে মাকে রক্ষা করতে না পারার জন্য নিজে দুঃখিত এবং অপরাধীদের উদাহরণস্বরূপ শাস্তি প্রয়োজন।
গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কাজ করা ডাঃ মনজুরুল কবীর জানান, নাহিদা বেগমকে রাত ১০টার কাছাকাছি হাসপাতালে পৌঁছানো সময়ই তার শ্বাস বন্ধ ছিল। তিনি শারীরিক পরীক্ষা করে দেখেন, মাথা ও দেহের বিভিন্ন অংশে মারধরের চিহ্ন রয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নাহিদার পুত্রের অসুস্থতার কারণে এখনো কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশের মতে, কাদের ওস্তা ও তার সহচরদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। বর্তমানে গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এই মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ের কার্যকরী বাস্তবায়ন এবং জমি দখল সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুত সমাধান দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে এই সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের ফলাফল এবং আইনি পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



