20 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপ্লাটো স্টেটের লিড‑জিঙ্ক খনিতে কার্বন‑মনোঅক্সাইড লিকে ৩৩ জন খনিক নিহত

প্লাটো স্টেটের লিড‑জিঙ্ক খনিতে কার্বন‑মনোঅক্সাইড লিকে ৩৩ জন খনিক নিহত

পশ্চিম আফ্রিকার নাইজেরিয়ার প্লাটো স্টেটের ওয়াসে শহরের বাইরে অবস্থিত লিড‑জিঙ্ক খনিতে কার্বন‑মনোঅক্সাইড গ্যাসের লিকের ফলে কমপক্ষে তেইশজন খনিকের প্রাণ শেষ হয়েছে। ঘটনাটি প্রাতঃকালের সূর্যোদয়ের ঠিক আগে, রাতের শিফটের শেষ সময়ে ঘটেছে। গ্যাসটি খনির অপ্রতুল বায়ু চলাচলের ফলে ভূগর্ভে সঞ্চিত হয়ে শ্রমিকদের শ্বাস বন্ধ করে দেয়।

শিফটের শেষের দিকে শ্রমিকরা তাদের রোজা ভোজের পর প্রার্থনা শেষ করে আবার ভূগর্ভে ফিরে গিয়েছিলেন। গ্যাসের প্রভাবের ফলে তারা কাজের মাঝখানে অচেতন হয়ে পড়ে এবং শিফট শেষ হওয়ার আগে কোনো রেসকিউ টিম উপস্থিত হতে পারেনি।

সকালবেলায় প্রথমে কাজ শুরু করতে আসা শ্রমিকরা ভূগর্ভে প্রবেশের সময় অচেনা নীরবতা লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে গিয়ে সাহায্য চায়। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায় অধিকাংশ শ্রমিক অচেতন অবস্থায় শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়, আর ২০টিরও বেশি শ্রমিককে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে ওয়াসের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুতই খনির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয় এবং এলাকাটি সুরক্ষিত করে। এই খনিটি জোসের রাজধানী শহর থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দক্ষিণ‑পূর্বে অবস্থিত, যা নিরাপত্তা সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

প্লাটো স্টেটের সরকারী কর্মকর্তারা এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকায় সক্রিয় ‘ব্যান্ডিট’ গোষ্ঠীর উপস্থিতি, তদন্ত ও ত্রাণকাজে বিলম্ব ঘটেছে।

একজন শ্রমিক, যিনি শিফটের শুরুতে মৃতদেহ আবিষ্কার করেন, জানান যে কিছু শ্রমিক গ্যাসের প্রভাব থেকে বেঁচে গিয়ে ওয়াসের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রায় ছত্রিশজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি স্থানীয় সময়ে প্রায় ছয়টা ত্রিশ মিনিটে ঘটেছে।

প্লাটো স্টেট সরকারের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে যে বিস্ফোরণের ফলে ৩৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তবে现场ের শ্রমিকদের মতে গ্যাসের লিকই মূল কারণ। সরকারী বিবৃতিতে বিস্ফোরণ উল্লেখ করা হলেও,现场ের তথ্যের সঙ্গে তা মিলে না।

শ্রমিকদের মতে গ্যাসটি কার্বন‑মনোঅক্সাইড, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক এবং দ্রুত অচেতন করে দেয়। কোনো রেসকিউ টিমের উপস্থিতি না থাকায়, শিফটের শেষের সময়ে গ্যাসের প্রভাবের ফলে শ্রমিকদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

বেঁচে থাকা শ্রমিকদের দ্রুতই স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার জন্য চিকিৎসা পাচ্ছেন। গ্যাসের সংস্পর্শে আসা রোগীদের জন্য অক্সিজেন থেরাপি এবং পর্যবেক্ষণ চালু করা হয়েছে।

মৃতদেহের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, যা অধিকাংশই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। মৃতদের পরিবারকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সমাধিস্থ করা হয়েছে এবং শোকের সময়ে ধর্মীয় আচার পালন করা হয়েছে।

অনুসন্ধান এখনও চলমান, এবং স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা গ্যাসের লিকের সঠিক কারণ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে, খনির নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা নাইজেরিয়ার খনন শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশের ঝুঁকি তুলে ধরেছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া ছড়িয়ে রয়েছে, এবং শ্রমিকদের পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি আর না ঘটে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments