বুধবার শক্তি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নতুন প্রকাশিত বইয়ের মাধ্যমে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং ২০২৬‑২০৩০ পর্যন্ত পাঁচ বছরের রূপরেখা উপস্থাপন করেন। বইটির কভারে উন্মোচিত পরিকল্পনাগুলো সরকারী নির্বাচনি ইশতেহারের পর গৃহীত কৌশলগত দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত গ্রন্থে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোকে এনার্জি সিকিউরিটি, দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের চারটি মূল স্তম্ভে গাঁথা হয়েছে। এই কাঠামো অনুসারে জ্বালানি বিভাগ ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের জন্য নীতি, প্রযুক্তি এবং বাজারের সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেবে।
গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কূপগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করা হবে, যাতে অনুসন্ধান, ড্রিলিং এবং উৎপাদন পর্যায়ে সময়সূচি ও সম্পদ বরাদ্দ স্পষ্ট থাকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্যাসের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়িয়ে রপ্তানি নির্ভরতা কমানো লক্ষ্য।
অনশোর ও অফশোর তেল‑গ্যাস অনুসন্ধানকে ত্বরান্বিত করতে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ এবং ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ নামে দুটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এই মডেলগুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের শর্তাবলী, রেভিনিউ শেয়ারিং এবং পরিবেশগত মানদণ্ড নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৬’ গঠন, গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী এবং এলপিজি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন অন্তর্ভুক্ত। এই নীতিগুলো গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, বিতরণ নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নাফথা উৎপাদন ও বিপণন, বিটুমিন উৎপাদন ও পরিবহন সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর জন্য পৃথক বিজনেস প্ল্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের মানদণ্ড নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো শিল্পের কাঠামোকে সুসংগঠিত করে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে।
প্রশাসনিক কার্যক্রমের আধুনিকায়নে ইএমআরডি পোর্টাল এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ড্যাশবোর্ড চালু করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করে ‘এক্সপ্লোসিভ ডিপার্টমেন্ট লাইসেন্সিং অটোমেশন সিস্টেম’ চালু করা হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ট্রুপ্রেজেন্স’ অ্যাপের সূচনা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ডিজিটাল উদ্যোগগুলো অনুমোদন সময় কমিয়ে ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়াবে।
আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তিতাস গ্যাস এবং অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির আওতায় ধাপে ধাপে লক্ষ লক্ষ প্রিপেইড মিটার ইনস্টল করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা গ্রাহকের পেমেন্ট সুবিধা এবং গ্যাস চোরাচালান কমাতে সহায়ক হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই পরিকল্পনা জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াবে, স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। স্বল্পমেয়াদে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার দ্রুততা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আর দীর্ঘমেয়াদে মাস্টার প্ল্যানের বাস্তবায়ন শিল্পের কাঠামোকে পুনর্গঠন করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশকে শক্তিশালী করবে।



