ফিফা ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪৮ দলীয় ক্লাব বিশ্বকাপের পরিকল্পনা ইউইফা শেষমেশ অনুমোদন করেছে। উভয় সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার সেফেরিন ও জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো সম্প্রতি একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। পূর্বে ইউইফা এই সম্প্রসারণকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মর্যাদার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিল। তবে এখন তারা শর্তে সম্মতি দিয়েছে যে টুর্নামেন্টটি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হবে না।
ইউইফা পূর্বে ক্লাব বিশ্বকাপের দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২ থেকে ৪৮ করতে চাওয়া পরিকল্পনাকে কঠোরভাবে বিরোধিতা করেছিল। সংস্থার উদ্বেগের মূল কারণ ছিল বড় ইউরোপীয় ক্লাবগুলোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া। এই বিরোধের ফলে ফিফা বহুবার সম্প্রসারণের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছিল। এখন উভয় সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে টুর্নামেন্টের ফ্রিকোয়েন্সি সীমিত করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেয়েছে।
সম্মতির মূল শর্ত হল ক্লাব বিশ্বকাপকে দুই বছর পরপর না চালিয়ে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত করা। এই ব্যবস্থা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে এবং ক্লাবগুলোর মৌসুমের ভারসাম্য বজায় রাখবে। ইউইফা এই শর্তে ফিফার সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে ৪৮ দলীয় টুর্নামেন্টের আয়োজন সম্ভব হবে। এই সিদ্ধান্ত উভয় সংস্থার মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি নির্দেশ করে।
রিয়াল মাদ্রিদ সম্প্রতি ইউইফার সঙ্গে পাঁচ বছরের আইনি বিরোধ শেষ করে ইউইফা-র সুপার লিগ পরিকল্পনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে গিয়েছে। ক্লাবটি গত জুন মিয়ামিতে ফিফার সঙ্গে আলোচনার সময় দুই বছর পরপর ক্লাব বিশ্বকাপের ধারণা উপস্থাপন করেছিল, তবে ইউইফা ও ইউরোপীয় লিগগুলোর বিরোধের কারণে তা অগ্রসর হয়নি। এখন রিয়াল মাদ্রিদ এই নতুন কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক ফুটবল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে চায়।
রিয়াল মাদ্রিদের এই পদক্ষেপকে গ্লোবাল ফুটবলের নেতৃত্বদাতাদের—ইনফ্যান্টিনো, সেফেরিন এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি—নেতৃত্বে একটি ইতিবাচক সিগন্যাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্লাবটি এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের মূল কাঠামোর সঙ্গে একমত হতে চায় এবং অতীতের বিরোধপূর্ণ উদ্যোগগুলো থেকে দূরে সরে যায়। এই পরিবর্তন ইউইফা ও ফিফার মধ্যে সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গার্ডিয়ান প্রকাশের আগে, যুক্তরাষ্ট্রে গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের সময় ফিফা টুর্নামেন্টের দল সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল বড় ইউরোপীয় ক্লাবগুলোকে নিশ্চিতভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, কারণ বার্সেলোনা, লিভারপুল এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলো পূর্বে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল। এই অভাবই ফিফাকে ৪৮ দলীয় ফরম্যাটের দিকে ধাবিত করেছে।
ইনফ্যান্টিনো রোমে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবের সাধারণ সমাবেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে এজেন্ডায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ফিফা টুর্নামেন্টকে বড়, উন্নত এবং অধিক প্রভাবশালী করার জন্য কাজ করছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ফিফা ও ইউইফার সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
ইউইফার বিরোধের পাশাপাশি ইউরোপীয় লিগস নামে একটি লবিং গ্রুপ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ক্যালেন্ডার এবং ক্লাব বিশ্বকাপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে আইনি পদক্ষেপের আবেদন করেছে। এই অভিযোগের মূল বিষয় হল টুর্নামেন্টের সময়সূচি কীভাবে জাতীয় লিগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। যদিও এই আইনি চ্যালেঞ্জ এখনও চলমান, তবে ফিফা ও ইউইফা উভয়ই টুর্নামেন্টের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে প্রস্তুত।
সারসংক্ষেপে, ফিফা ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপকে ৪৮ দল পর্যন্ত বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়, আর ইউইফা এখন এই পরিকল্পনাকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থন করছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক আইনি সমাধান এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের ফ্রিকোয়েন্সি ও ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান হলে, ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে নতুন রেকর্ড স্থাপন করতে পারে।



