মঙ্গলবার, মার্কিন সরকার ও কানাডিয়ান সরকার রমজান মাসের সূচনায় বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে একসঙ্গে বিবৃতি প্রকাশ করে। উভয় দেশের শীর্ষ নেতারা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংযম এবং পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে, এই পবিত্র সময়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
মার্কিন সরকার প্রধান ডোনাল্ড ট্রাম্প রমজান উদযাপনকারী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই মাসটি আত্মিক পুনর্জাগরণ, ধ্যান এবং সৃষ্টিকর্তার নীতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ। তিনি রমজানকে আমেরিকান সমাজে প্রার্থনা ও উপবাসের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলতে, পারিবারিক ও সম্প্রদায়িক সংহতি দৃঢ় করতে এবং দয়া, দানশীলতা ও নম্রতার মতো মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতাকে জাতির সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে, বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
কানাডিয়ান সরকার প্রধান মার্ক কার্নি একই দিনে মুসলিমদের রমজান শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সূর্যাস্তের পর কানাডা ও অন্যান্য দেশগুলিতে মুসলিমরা পবিত্র রমজান পালন শুরু করবে। তিনি রমজানকে আত্মশুদ্ধি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাস হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জোর দেন। কার্নি উল্লেখ করেন, ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করা কানাডিয়ান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, এবং সকল নাগরিকের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিকাশের অধিকারই দেশের মূল মূল্যবোধ।
কানাডিয়ান সরকার ইসলামোফোবিয়া কোনো স্থান নেই এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে, এবং এই ধরনের বৈষম্যকে নির্মূল করার জন্য নীতি ও আইনগত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। কার্নি রমজান শুভেচ্ছা জানিয়ে তার বক্তব্য সমাপ্ত করেন, যা দেশের বহুমুখী ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
বিশ্বের বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশে রমজান বুধবার থেকে শুরু হয়েছে, তবে চাঁদ দেখার সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে কিছু দেশ এক দিন পরে রোজা পালন করবে। তুরস্ক, ওমান, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়া মতো দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম রোজা পালন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুসারে রমজান নবম মাস, এবং যদিও কিছু দেশ এখনও ঐতিহ্যবাহী চাঁদ দেখার পদ্ধতি অনুসরণ করে, তবে অধিকাংশ দেশ এখন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের ভিত্তিতে রমজানের সূচনা নির্ধারণ করছে। এই পরিবর্তন রমজানকে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে তুলে ধরে।
মার্কিন সরকার ও কানাডিয়ান সরকার উভয়ের রমজান শুভেচ্ছা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সংহতির বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় দেশের নেতারা ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে, যা জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে এই ধরনের বার্তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বহুসাংস্কৃতিক নীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।
এই বিবৃতি ও শুভেচ্ছা রমজান মাসে মুসলিম সমাজের আত্মিক ও সামাজিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধর্মীয় সংহতি ও পারস্পরিক সম্মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।



