বানি এক্সো এবং জেলি রোলের বিবাহিত দম্পতি, ২০১৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ, সম্প্রতি প্রকাশিত আত্মজীবনীতে তাদের সম্পর্কের বাস্তবতা ও অতীতের সমস্যাগুলো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি ১৭ তারিখে প্রকাশিত “Stripped Down: Unfiltered and Unapologetic” শিরোনামের বই থেকে নেওয়া অংশে বানি উল্লেখ করেছেন যে, জেলির দশ মাসের এক গোপন সম্পর্ক তাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ অনুভব করিয়েছিল।
বানি বইতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি পূর্বে সন্দেহ করছিলেন জেলি তার এক প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করছেন, যদিও তিনি তা ‘বেবি মামা’ নয় বলে স্পষ্ট করেছেন। পরবর্তীতে সেই নারী সরাসরি বানির সঙ্গে কথা বলে সবকিছু স্বীকার করেন, যার মধ্যে জেলির তার জন্য একটি বাড়ি কেনা এবং তার কন্যা বেইলির যত্ন নেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তথ্য বানিকে শারীরিক নয়, মানসিক ধোঁকায় বেশি আঘাত করেছে।
বানি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ঘটনা তাকে ‘ডিসপোজেবল’ অনুভব করিয়েছে এবং তিনি এই ব্যথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যাওয়ার জন্য বহু বছর প্রয়োজন বলে মনে করেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে সময় লাগবে এবং তিনি এখনো পুরোপুরি জেলির প্রতি বিশ্বাস পুনর্গঠন করতে পারেননি।
দম্পতি বর্তমানে বেইলির যৌথ অভিভাবকত্ব ভাগাভাগি করছেন এবং জেলির পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক হিসেবে পরিচিত পুত্র নোয়াকে একসাথে লালন-পালন করছেন। এছাড়া, তারা আইভিএফ এবং সারোগেটের মাধ্যমে যমজ সন্তান গড়ার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বানি তার আত্মজীবনীতে উন্মুক্তভাবে আলোচনা করেছেন।
বানির বিবাহিত জীবনের এই উন্মোচন তার একাধিক পূর্বের সম্পর্কের অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত। তিনি পূর্বে অন্য সম্পর্কেও অবিশ্বস্ততা অনুভব করেছেন, যা তাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। জেলি নিজেও অক্টোবর মাসে Human School পডকাস্টে তার ব্যভিচারকে তার বয়সের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বানি এবং জেলির বিবাহের এই নতুন পর্যায়ে উভয়ই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছেন। তারা একে অপরের সন্তানদের প্রতি দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করছেন এবং ভবিষ্যতে পরিবার গড়ার জন্য যৌথ পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও অতীতের ব্যথা সম্পূর্ণরূপে মুছে যাওয়া কঠিন, তবে উভয়ই একে অপরের সঙ্গে পুনরায় বিশ্বাস গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এই প্রকাশনা এবং আত্মজীবনী পাঠকদেরকে দম্পতির অন্তর্নিহিত সংগ্রাম ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। বানি এক্সো এবং জেলি রোলের গল্প দেখায় যে, সুনির্দিষ্ট যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া কোনো সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা কঠিন। ভবিষ্যতে তারা কীভাবে তাদের পরিবারকে গড়ে তুলবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে বর্তমান সময়ে তারা একে অপরের সঙ্গে পুনরায় সংহতি গড়ে তোলার পথে অগ্রসর।



