গৃহমন্ত্রীর পদে সদ্য যোগদান করা সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রথম কর্মদিবসে গৃহমন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারিয়েটে এক অভ্যন্তরীণ সভা আয়োজন করেন। সভায় মন্ত্রিপরিষদের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যে, পুলিশ স্টেশনের অফিসার‑ইন‑চার্জ (OC) গুলি মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে না; সব যোগাযোগ হায়ারার্কিক্যাল চেইনের মাধ্যমে হতে হবে।
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করে তথ্য শেয়ার করেছেন, জানান, নতুন মন্ত্রী সংগঠনগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, OC‑এর কল যদি হায়ারার্কি অতিক্রম করে, তবে তা অনুপযুক্ত এবং তা সহ্য করা হবে না।
সালাহউদ্দিনের নির্দেশে লবিং, ঘুষ বা কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, কোনো অবৈধ লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্তের পরই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কোনো আপস করা হবে না।
মন্ত্রীর বক্তব্যে অতীত ১৭ বছর ধরে পুলিশের কার্যক্রমের ওপর একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি কর্মকর্তাদের কাজের পরিধি সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানান, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে সময় ও সম্পদ ব্যয় না হয়।
সফলতা মাপার জন্য তিনি কাজের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেন। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি অপরাধে জড়িত পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের পর শাস্তি আরোপের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
সড়ক পরিবহনের সমস্যায় জনগণ যে কষ্ট ভোগ করে, তা দূর করার লক্ষ্যে তিনি সকল সরকারি কর্মসূচি যেন নাগরিকের উপর অতিরিক্ত বোঝা না বাড়ায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
বন্দুকধারী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে পুনরায় বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে, যা আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।” এই কথায় তিনি নিরাপত্তা সংস্থার সুনাম পুনর্নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
মন্ত্রীর মতে, গৃহমন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত, এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপের অনুমতি থাকবে না।
এই নির্দেশনা গৃহমন্ত্রীর প্রথম দিনেই প্রকাশ পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার কাজের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কর্মকর্তারা এখন থেকে মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করে, তাদের নিজ নিজ স্তরের উপযুক্ত চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে।
অধিকন্তু, মন্ত্রীর এই পদক্ষেপের ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করলে জনগণের নিরাপত্তা ও সেবা মানোন্নয়ন হবে।
গৃহমন্ত্রীর এই নতুন নীতি ও নির্দেশনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



