বিএনপি অধিকাংশ আসন জয় করে ১৮ মাসের রাজনৈতিক বিরতির পর আবার জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল জ্যোতি সিংহের নেতৃত্বে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি। বিকেলে একই স্থানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, ফলে বাংলাদেশ পুনরায় নির্বাচিত রাজনৈতিক শাসনের অধীনে পরিচালনা শুরু করেছে।
শপথ গ্রহণের সময় সংসদ সদস্যরা সংবিধানের ধারা ৯১ অনুসারে শপথ নেন এবং জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে একসাথে প্রতিজ্ঞা করেন। শপথের পর প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা একত্রে শপথ নেন, যেখানে তারা দেশের উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিকদের কাছ থেকে উল্লাসের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
জাতীয় সংসদে ৩১০টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি আসন জয় করে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন দলটি নির্বাচনের আগে প্রকাশিত নীতি সংকলনে অর্থনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বৈধতা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছভাবে ঘোষিত হয়েছে।
জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়, যেখানে নাগরিকরা সরকারের নীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে। প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে বহু আহত ও মৃতের সংখ্যা রিপোর্ট করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছিল। এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত সরকারকে পুনর্গঠন ও নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানাতে বাধ্য করে, যা পরে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক চাপের পর শেখ হাসিনা সরকারকে অস্থায়ীভাবে ত্যাগ করতে হয় এবং সংসদীয় ক্ষমতা থেকে সরে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি পার্লামেন্টের বিরোধী দল হিসেবে অবশিষ্ট থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাব কমে যায়। এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত নতুন শাসন গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে।
বিএনপি জয়লাভের পর ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ডক্টর ইউনুস পূর্বে অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা তাকে দেশের আর্থিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে সক্ষম করে। শপথ গ্রহণের পর তিনি তৎক্ষণাৎ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন যে নতুন সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সমতা অর্জনে পদক্ষেপ নেবে, তবে রাজনৈতিক বিরোধী দলের সমালোচনা ও জনমতকে সামলাতে হবে। বিএনপি-ডক্টর ইউনুসের দলকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামো প্রকল্প এবং দুর্নীতি মোকাবেলায় দৃঢ় নীতি গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পরবর্তী কয়েক মাসে সংসদে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণের মূল সূচক হবে।



