ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল কোর্ট আজ বিশেষ আদেশে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টুলিপ সিদ্দিক এবং রাজউকের প্রাক্তন সহকারী আইন উপদেষ্টা Sardar মোসাইদ হোসেন ধলীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতার ওয়ারেন্ট জারি করেছে। উভয়কে গুলশান‑২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি গুলশান‑২-এ অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটের অধিগ্রহণে অনুন্নত সুবিধা প্রদান ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত।
মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল কোর্টের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ চৌধুরী চিহ্নিত চার্জ শিট গ্রহণের পর এই আদেশ প্রদান করেন। চার্জ শিটটি অ্যান্টি‑করাপশন কমিশন (ACC) কর্তৃক প্রস্তুত ও আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত এই শিটে উল্লিখিত প্রমাণের ভিত্তিতে টুলিপ সিদ্দিক ও মোসাইদ হোসেন ধলীরকে অপরাধমূলক দায়ে টানা হয়।
ACC-র পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ সালাম জানান, গ্রেফতার ওয়ারেন্ট কার্যকর করার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হিসেবে ৮ই মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওয়ারেন্টের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।
মামলাটি প্রথমবার ১৫ই এপ্রিল গত বছর দায়ের করা হয়। সেই সময়ে টুলিপ সিদ্দিক, যিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের সংসদ সদস্য, এবং মোসাইদ হোসেন ধলীরকে সহ-অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান‑২ ফ্ল্যাটটি কোনো অর্থ প্রদান না করে নিজের নামে রেজিস্টার করিয়ে নেয়।
প্রমাণপত্রে উল্লেখ আছে, অভিযুক্তরা পারস্পরিক সমন্বয়ে তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে ফ্ল্যাটটি অবৈধভাবে দখল করে এবং পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নগদ অর্থের লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া যায়নি, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধমূলক কাজের সূচক হিসেবে বিবেচিত।
ACC-র সহকারী পরিচালক এ.কে.এম. মোতুজা আলি সাগর ১৩ই জানুয়ারি এই বছর চার্জ শিট দাখিলের দায়িত্বে ছিলেন। শিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ, সাক্ষ্য ও নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে, যা আদালতে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
এই মামলার পাশাপাশি, গত বছর শীখ হোসেনের বড় চাচাতো বোন টুলিপ সিদ্দিককে পুর্বাচল প্লট স্ক্যাম সংক্রান্ত ছয়টি মামলায় ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শীখ হোসেন নিজেও একই স্ক্যাম সংক্রান্ত ছয়টি মামলায় ৩৬ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগের মুখে ছিলেন। এই পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশগুলো বর্তমান মামলায় অতিরিক্ত দায়িত্ববোধ ও নজরদারির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
গ্রেফতার ওয়ারেন্টের কার্যকরীকরণে যদি অভিযুক্তদের ধরা পড়ে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জামিনের ব্যবস্থা, সম্পত্তি জব্দ এবং আর্থিক দণ্ড আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি, ACC-কে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
সর্বশেষে, এই মামলাটি দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের সম্পত্তি অধিগ্রহণে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার ও দায়িত্বের যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।



