গুগল বুধবার ঘোষণা করেছে যে জেমিনি অ্যাপে এখন সঙ্গীত উৎপাদন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারটি DeepMind‑এর Lyria 3 মডেল ব্যবহার করে এবং বর্তমানে বেটা পর্যায়ে রয়েছে। ব্যবহারকারীরা টেক্সট বর্ণনা, ছবি বা ভিডিও আপলোড করে ইচ্ছামত সুর, লিরিক্স এবং কভার আর্ট তৈরি করতে পারবেন।
ফিচারটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে শুধু গানের থিম বা স্টাইল বর্ণনা করতে হবে; উদাহরণস্বরূপ, “একটি মজার R&B স্লো জ্যাম যেখানে মোজা তার সঙ্গী খুঁজে পায়” লিখলে জেমিনি ৩০ সেকেন্ডের ট্র্যাক ও Nano Banana তৈরি করা কভার আর্ট একসাথে সরবরাহ করবে। এছাড়া ছবি বা ভিডিও আপলোড করলে AI সেই মিডিয়ার মুডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঙ্গীত রচনা করবে।
Lyria 3 পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় আরও বাস্তবসম্মত ও জটিল সুর তৈরি করতে সক্ষম বলে গুগল জানিয়েছে। ব্যবহারকারীরা স্টাইল, ভোকাল এবং টেম্পোসহ বিভিন্ন উপাদান স্বাধীনভাবে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, ফলে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সঙ্গীতের রঙিনতা বাড়ে।
একই সময়ে গুগল ইউটিউবের Dream Track ফিচারেও Lyria 3 মডেলকে যুক্ত করেছে। Dream Track পূর্বে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিউব ক্রিয়েটরদের জন্য সীমিত ছিল, তবে এখন এই সেবা বিশ্বব্যাপী সব ক্রিয়েটরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে কন্টেন্ট নির্মাতারা সহজে AI‑সৃষ্ট ট্র্যাক ব্যবহার করে ভিডিওর পটভূমি সঙ্গীত তৈরি করতে পারবেন।
গুগল স্পষ্ট করে বলেছে যে এই প্রযুক্তি কোনো শিল্পীর সুনির্দিষ্ট সুর নকল করার উদ্দেশ্যে নয়। ব্যবহারকারী যদি প্রম্পটে কোনো শিল্পীর নাম উল্লেখ করেন, তবে জেমিনি তা বিস্তৃত সৃজনশীল অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে একই স্টাইল বা মুডের সঙ্গীত তৈরি করবে, কিন্তু সরাসরি কপি করা হবে না। এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আউটপুটে ফিল্টার প্রয়োগ করে বিদ্যমান কন্টেন্টের সঙ্গে সাদৃশ্য পরীক্ষা করা হয়।
সৃষ্ট সঙ্গীতের সব ফাইলের মধ্যে SynthID ওয়াটারমার্ক যুক্ত থাকবে, যা AI‑উৎপাদিত কন্টেন্ট চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। গুগল এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে কপিরাইট লঙ্ঘন রোধ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়।
সঙ্গীত উৎপাদন প্রযুক্তির এই অগ্রগতি ডিজিটাল সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, মার্কেটার এবং সাধারণ ব্যবহারকারী এখন দ্রুত ও কম খরচে মূল সুর তৈরি করতে পারবে, যা বিজ্ঞাপন, গেম, সামাজিক মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত প্রকল্পে ব্যাপকভাবে প্রয়োগযোগ্য। একই সঙ্গে, AI‑সঙ্গীতের স্বয়ংক্রিয়তা ও কপিরাইট নীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় এই ফিচারটি নতুন নিয়মের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
গুগলের এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পের সংযোগকে আরও মজবুত করবে, এবং ভবিষ্যতে AI‑সঙ্গীতের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিকেই স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।



