পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী খলিলুর রহমান বুধবার তার প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মন্ত্রী পদে আসেননি এবং নির্বাচনী কারচুপি অভিযোগকারী দলকে ভোট পুনর্গণনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এই মন্তব্যটি তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
খলিলুর রহমানের এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি তো নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হইনি। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (নির্বাচনী কারচুপি) অভিযোগ যারা করছে, তারা আবার ভোট গণনা করুক।” তিনি অতিরিক্তভাবে যোগ করেন, “বিএনপি আগে পদত্যাগ চাইলেও এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।” এই উক্তিগুলো তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নীতির সূচক হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে, যা দেশের শাসন কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছে। নির্বাচনের ফলাফলের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অন্যান্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন দায়িত্বের সূচনা চিহ্নিত করে।
খলিলুর রহমানের পূর্ববর্তী পদ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যেখানে তিনি নিরাপত্তা নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সমন্বয়ে কাজ করতেন। তবে, সেই সময়ে বিএনপি তার পদত্যাগের দাবি জানায়। তার এই পদত্যাগের দাবি পরবর্তীতে পরিবর্তিত হয়ে, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তনটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সরকারের টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খলিলুর রহমানের প্রথম দিনেই তিনি যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যারা নির্বাচনী কারচুপি নিয়ে অভিযোগ তুলছে, তাদের পুনরায় ভোট গণনা করার দাবি করা উচিত, যা ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এই বক্তব্যের ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে বিরোধীরা তার মন্তব্যকে রাজনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে।
বিএনপি, যা নির্বাচনে বড় জয়লাভ করেছে, তার নেতৃত্বের মধ্যে এই মন্তব্যকে সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, খলিলুর রহমানের মতে, “বিএনপি আগে পদত্যাগ চাইলেও এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে,” যা নির্দেশ করে যে রাজনৈতিক গতি পরিবর্তিত হয়েছে এবং নতুন সরকারে তার ভূমিকা স্থিতিশীল হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে নিযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক মিশন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার পূর্ববর্তী নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, তার টেকনোক্র্যাট পটভূমি সরকারকে নীতি-নির্ধারণে প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, খলিলুর রহমানের মন্তব্য এবং তার নতুন দায়িত্বের সংমিশ্রণ দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য তার আহ্বান সরকারকে ভোট পুনর্গণনা বা সংশ্লিষ্ট তদন্তের দিকে মনোযোগী করতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রথম কর্মদিবসে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগের প্রত্যাখ্যান এবং বিএনপির পদত্যাগের দাবির পরিবর্তন সম্পর্কে মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তার ভবিষ্যৎ নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো কীভাবে গঠন করবে, তা পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



