বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নতুন আমির ডা. শফিকুর রহমান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ফজরের নামাজ আদায় করে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে দিন শুরু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৬টায় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় পরিবেশের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব জাগ্রত করা।
কর্মসূচির সূচনা হবে মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের (মূল বালিকা শাখা) সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদ এলাকার কাছাকাছি। সকালবেলায় নামাজের পর ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন। তার সঙ্গে দলীয় অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও অংশ নেবেন, যা কর্মসূচির গুরুত্ব ও সমন্বয়কে আরও দৃঢ় করবে।
এই কর্মসূচির ঘোষণা মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, দলীয় কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় করা হয়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে এই স্বেচ্ছাসেবী অভিযান এবং এতে জামায়াতের নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে। জুবায়ের বার্তা অনুসারে, এই ধরনের জনসেবা কার্যক্রম নতুন আমিরের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জামায়াতের জনমত গঠন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। তিনি যেহেতু নতুন আমির, তাই তার প্রথম কাজটি জনসেবা প্রকল্পে কেন্দ্রীভূত করা দলীয় নীতি ও জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর কিছু প্রতিনিধি এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে, তবে তারা সরাসরি কোনো সমালোচনা করেনি।
ক্লিন-আপ অভিযানে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা মসজিদ ও বিদ্যালয়ের আশেপাশের রাস্তা, গাছপালা ও পাবলিক স্থানে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। এই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতি ও নেতৃত্বের মাধ্যমে কর্মসূচির কার্যকারিতা ও অংশগ্রহণের হার বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর ডা. শফিকুর রহমানের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। তবে দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি আগামী সপ্তাহে অন্যান্য জেলা ও শহরে সমান ধরণের জনসেবা কার্যক্রম চালু করার কথা বিবেচনা করছেন। এই ধারাবাহিকতা জামায়াতের রাজনৈতিক প্রোফাইলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে তার উপস্থিতি বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন আমিরের প্রথম দিনেই ফজরের নামাজের পর মিরপুরে পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা, তার নেতৃত্বের শৈলী ও জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জামায়াতের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক উপস্থিতি উভয়ই দৃশ্যমান হবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।



