সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত সমাধানের জন্য তৃতীয় ধাপের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে “অর্থবহ অগ্রগতি” ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন। একই বার্তা তিনি আলোচনার দ্বিতীয় দিনেও পুনর্ব্যক্ত করে, শান্তি প্রক্রিয়ার গতি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
স্টিভ উইটকফের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা উল্লেখ করে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে রক্তপাত বন্ধের প্রচেষ্টায় গর্ব প্রকাশ করেন। তবে এই ইতিবাচক মন্তব্যের পরেও বড় কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়ে যায়।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের ধারাবাহিক চাপের দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনকে আপসের পথে ধাক্কা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হাতে বিজয় স্বীকার করে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয় এবং ট্রাম্পের কৌশলটি কেবল একটি সাময়িক পদক্ষেপ, চূড়ান্ত সমাধান নয়।
ইউক্রেনের শীর্ষ আলোচক রুস্তেম উমেরভ প্রথম দিনের আলোচনার বিষয়বস্তুকে “বাস্তবসম্মত বিষয় এবং সম্ভাব্য সমাধান প্রক্রিয়া” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার আগে ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দৃঢ় নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজন। এই দাবি আলোচনার মূল কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
রাশিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী দলটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেডিনস্কি রুশ দলের নেতৃত্বে আছেন। মেডিনস্কি দলের লক্ষ্য হলো রাশিয়ার নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও মধ্যস্থতা করছেন। উভয় পক্ষের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা নির্দেশ করে। আলোচনার সময়সূচি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পূর্ণ চার বছরের পূর্ণতা এক সপ্তাহ আগে নির্ধারিত হয়, যা সময়ের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই আলোচনার পটভূমিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অব্যাহত রক্তপাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি প্রত্যাশা রয়েছে। জেনিভা আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয় এবং তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা কীভাবে ফলপ্রসূ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে স্টিভ উইটকফের ইতিবাচক মন্তব্য এবং জেলেনস্কি ও উমেরভের স্পষ্ট অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বাস্তবসম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি, ভূখণ্ডগত সমঝোতা এবং মানবিক সহায়তা ইত্যাদি মূল বিষয়গুলোতে সমঝোতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করতে পারে, তবে তা অর্জনের জন্য উভয় পক্ষের ইচ্ছাশক্তি এবং তৃতীয় পক্ষের ধারাবাহিক সমর্থন অপরিহার্য।



