কোলোম্বোতে বুধবার অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে পাকিস্তান ১৯৯-৩ স্কোরে নামিবিয়া দলকে ৯৭ রান দিয়ে আটকে ১০২ রানের বিশাল পার্থক্যে জয়লাভ করে। এই জয় পাকিস্তানকে সুপার ইটসের শেষ সিট নিশ্চিত করে এবং শাদাব খানকে টুর্নামেন্টের লক্ষ্য সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বাটিংয়ে পাকিস্তান প্রথমে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে সুযোগ দিয়ে তার প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ শতক অর্জন করতে সাহায্য করে। ফারহান ১০০ রান পার করে দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ফলে পাকিস্তান ১৯৯ রানে স্থির হয়। শাদাব খান ২২ বলের মধ্যে ৩৬ রান দ্রুত করে দলের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে।
বোলিংয়ে উসমান তরিক ও শাদাব খান একসাথে সাতটি উইকেট নেয়, যা নামিবিয়ার ব্যাটিংকে ১৭.৩ ওভারে শেষ করে দেয়। নামিবিয়া মাত্র ৯৭ রান সংগ্রহ করতে পারে, ফলে পাকিস্তানের জয় ১০২ রানের বিশাল পার্থক্যে নিশ্চিত হয়। শাদাবের বোলিং পারফরম্যান্স ৩ উইকেটের সঙ্গে ১৯ রান দেয়, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে।
শাদাব খানের মতে, ভারতবিরোধী একক ম্যাচের পরও এই জয়কে হালকা নেওয়া যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সঠিক পথে আছি এবং বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য অনুসরণ করছি, প্রক্রিয়াটি মেনে চলছি।” তার এই মন্তব্য দলীয় মনোভাবকে দৃঢ় করে এবং টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করে।
শাদাব সতর্ক করে জানান, সুপার ইটসের পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা আরও শক্তিশালী হবে। পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে শনিবার কোলোম্বোতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, এরপর ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মুখোমুখি হবে। তিনি বলেন, “আটটি শক্তিশালী দল রয়েছে, তাই প্রতিটি ম্যাচই উচ্চচাপের হবে।” এই বিবরণে দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
নামিবিয়ার ক্যাপ্টেন গেরহার্ড এরাসমাস ম্যাচের পর দলের দুর্বলতা স্বীকার করে, বিশেষ করে বিশেষায়িত পজিশনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এটি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষার সুযোগ, যা ভবিষ্যতে কাজে আসবে।” এছাড়া তিনি নামিবিয়ার আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সহ সহ-আয়োজক দেশ।
এরপরের সপ্তাহে নামিবিয়া দল ওডিআই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে, যেখানে দেশীয় ক্রিকেটে নতুন উদ্যম ও সুযোগের কথা বলা হচ্ছে। গেরহার্ডের মতে, দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বড় সাফল্যের ভিত্তি হবে।
সারসংক্ষেপে, পাকিস্তান সুপার ইটসের শেষ সিট নিশ্চিত করে এবং শাদাবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। নামিবিয়া দল যদিও এই টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হয়েছে, তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষার মাধ্যমে তারা উন্নতি করতে পারে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে পাকিস্তানকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, যা তাদের কৌশল ও মানসিক প্রস্তুতির পরীক্ষা হবে।



