ওপেনএআই এই সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে, ভারতের ছয়টি পাবলিক ও প্রাইভেট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। লক্ষ্য হচ্ছে পরের বছরের মধ্যে ১,০০,০০০ের বেশি ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীর কাছে এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার মূল কাঠামোতে এআইকে সংহত করা, যাতে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির দক্ষতা বাড়ে।
অংশীদারিত্বের তালিকায় রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট, মেডিকেল এবং ডিজাইন প্রতিষ্ঠান। প্রথম দফার অংশীদারদের মধ্যে আছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি দিল্লি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট আহমেদাবাদ এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস দিল্লি। এছাড়াও কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত ডিজাইন স্কুলকে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওপেনএআই উল্লেখ করেছে যে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে এক বছর শেষে এক লক্ষের বেশি ব্যবহারকারীকে এআই টুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে এআই ভিত্তিক বিশ্লেষণ, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরি করা হবে। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ সেশন, কর্মশালা এবং কাস্টমাইজড টুলকিট সরবরাহ করা হবে।
এই উদ্যোগের ফোকাস কেবলমাত্র ভোক্তা ব্যবহার নয়, বরং শিক্ষার মূল কার্যক্রমে এআইকে অন্তর্ভুক্ত করা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ, ক্লিনিকাল ট্রায়াল এবং ডিজাইন প্রক্রিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীরা প্রকৃত সমস্যার সমাধানে এআই ব্যবহার করে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ইতিমধ্যে ভারতের বাজারে বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কোম্পানির সিইও স্যাম অল্টম্যানের মতে, চ্যাটজিপিটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ১ কোটি অতিক্রম করেছে। এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের পর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবহারকারী ভিত্তি নির্দেশ করে।
ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারণের এই ধাপটি গুগল ও মাইক্রোসফটের সমান্তরাল উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুগল সম্প্রতি জানিয়েছে, গেমিনি টুলসের মাধ্যমে শিক্ষায় ভারতের ব্যবহার বিশ্বে সর্বোচ্চ। মাইক্রোসফটও একই সপ্তাহে তার Elevate স্কিলিং প্রোগ্রামকে দেশজুড়ে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে শিক্ষকরা এআই ভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতি শিখতে পারেন।
এই সপ্তাহে দিল্লিতে এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একত্রে এআই শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবে। সামিটের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ওপেনএআই, গুগল এবং মাইক্রোসফটের প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের এআই ইকোসিস্টেমের সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তব প্রকল্পে এআই প্রয়োগের সুযোগ পাবে। উদাহরণস্বরূপ, মেডিকেল শিক্ষার্থীরা রোগ নির্ণয়ে এআই সহায়তা ব্যবহার করে ক্লিনিকাল সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা বাড়াতে পারবে। ডিজাইন শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল প্রোটোটাইপ তৈরিতে জেনারেটিভ এআই টুল ব্যবহার করতে পারবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এআই সংযোজনের ফলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান বাজারে দক্ষতা ঘাটতি কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এআই টুলের সঙ্গে পরিচিত নতুন প্রজন্মের কর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অধিক মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই ভিত্তিক পাঠ্যক্রম দ্রুত গ্রহণ করা জরুরি।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হন, তবে এআই সম্পর্কিত কোর্স বা ওয়ার্কশপের তথ্য সংগ্রহ করুন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুন। এভাবে আপনি ভবিষ্যতের চাকরি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারবেন।



