ঢাকা, আগারগাঁও – জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত ৫০টি নারীর সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হবে, ইদ‑উল‑ফিতরের আগে ফলাফল জানাতে ইলেকশন কমিশন প্রস্তুত। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আজ বিকালে কমিশনের সদর দফতরে করা হয়, যেখানে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনার মাসুদ জানান, রমজান মাসের শেষের দিকে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং ইদ‑উল‑ফিতরের পূর্বে সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা বেশি সময় নেব না; ইদ‑এর আগে সূচি জানিয়ে দেব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে কমিশন দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা মোট পঞ্চাশ, যা নারীদের পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সংবিধানিকভাবে নির্ধারিত। এই আসনগুলো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের পর আলাদা ভাবে নির্বাচন করা হবে, ফলে পার্লামেন্টের গঠন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত ধাপ যুক্ত হবে।
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের জন্য সংরক্ষিত আসন অর্জনের শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। দলকে সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ছয়টি সাধারণ আসন জিততে হবে, তবেই তারা সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা জমা দিতে পারবে। এই মানদণ্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র বৃহৎ পার্টিগুলিই নারীর সংরক্ষিত আসনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, যা পার্লামেন্টের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এই নিয়মের ফলে ছোট ও মাঝারি পার্টিগুলোর জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রবেশের সম্ভাবনা সীমিত হবে, তবে বৃহৎ পার্টিগুলোর জন্য অতিরিক্ত নারীর প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, এই ব্যবস্থা ১৩তম জাতীয় সংসদের গঠনকে প্রভাবিত করবে এবং নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।
কমিশন উল্লেখ করেছে, রমজান মাসে ভোটদান প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া, ভোটদান সময়সূচি ইদ‑উল‑ফিতরের আগে প্রকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হবে, যা ভোটারদের যথাযথ সময়ে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে।
সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর, পার্লামেন্টের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ হবে। এই পরিবর্তন দেশের আইনসভা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল পার্লামেন্টের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইলেকশন কমিশনের এই ঘোষণার পর, রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত তাদের কৌশল নির্ধারণে মনোনিবেশ করেছে। সংরক্ষিত আসনের জন্য প্রার্থী নির্বাচন, প্রচারাভিযান পরিকল্পনা এবং ভোটার সংযোগের কাজ ত্বরান্বিত হবে। রমজান মাসের ধর্মীয় পরিবেশকে বিবেচনা করে, দলগুলো ভোটারদের সঙ্গে সংবেদনশীলভাবে যোগাযোগ বজায় রাখবে বলে আশা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, রমজান মাসে নারীর সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ইলেকশন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ইদ‑উল‑ফিতরের আগে সময়সূচি জানিয়ে ভোটারদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে। এই প্রক্রিয়া ১৩তম জাতীয় সংসদের গঠনকে প্রভাবিত করবে এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নারীর অংশগ্রহণকে আরও দৃঢ় করবে।



