ঢাকা শহরে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলি নেওয়াজ মাহমুদ খৈম, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এবং প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত হল মেলায় অংশ নেওয়া স্টলগুলোর ভাড়া সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হবে।
বইমেলা আয়োজনের আগে প্রকাশক সমিতি ‘প্রকাশক ঐক্য’র অধীনে একটি বড় অংশ স্টল ভাড়া ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে আপত্তি জানায়। তারা রমজান ও নির্বাচনী সময়সূচি বিবেচনা করে ঈদুল ফিতরের পর মেলা চালানোর দাবি তুলে ধরে। তবে ফেব্রুয়ারিতে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে তারা ছয়টি শর্ত প্রস্তাব করে, যার মধ্যে স্টল ভাড়া মওকুফ, সরকারি তহবিল দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ, অনিয়মতান্ত্রিক বরাদ্দ বাতিল এবং সরকারি বই ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত।
বৈঠকে প্রকাশকদের শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের দাবি গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মেলা ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুরু হবে। অন্য শর্তগুলো, যেমন অবকাঠামো নির্মাণ ও বই ক্রয়ের বৃদ্ধি, এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং পরবর্তী আলোচনার বিষয় রয়ে গেছে।
বৈঠকের সূচনায় বাংলা একাডেমী ও প্রকাশক পক্ষ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বর্তমান সমাজে বইয়ের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে বই উপহার দিলে এখন তা অস্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও এক সময় বই উপহার দেওয়া প্রচলিত ছিল।
মন্ত্রীর মতে, বইমেলা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি প্রকাশকগণ সমর্থন না করেন তবে মেলা এই বছর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী দেশের বর্তমান আর্থিক ও শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা দুর্বল হলেও সরকার নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে। এই প্রতিশ্রুতির নেতৃত্বে তরেক রহমানের অধীনে নতুন নীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রীর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রমজান মাসে স্কুল, কলেজ ও বাজারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। তিনি প্রকাশকদের অনুরোধ করেন, রমজান মাসে বইমেলা বন্ধ না করে চলমান রাখার জন্য। এছাড়া তিনি জানিয়ে দেন, আগামী চার বছর রমজান মাস ফেব্রুয়ারিতে পড়বে, তাই এই সময়ে মেলা চালিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক হবে।
বৈঠকের পর প্রকাশক ও সরকারী পক্ষের মধ্যে শর্তাবলী নিয়ে পুনরায় আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। স্টল ভাড়া মওকুফের পাশাপাশি অবকাঠামো ও বই ক্রয়ের বিষয়গুলোতে সমঝোতা চূড়ান্ত করা হবে। এই আলোচনার ফলাফল মেলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বইমেলা শুরু হওয়ার আগে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর প্রস্তুতি ও সাজসজ্জা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। সরকারী তহবিলের সহায়তায় স্টলগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ফলে প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পাঠক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই বইমেলা একটি মূল্যবান সুযোগ, যেখানে নতুন প্রকাশনা, শিক্ষামূলক উপকরণ এবং বিভিন্ন শাখার বই সহজলভ্য হবে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা বিশেষ ছাড় ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঠকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা করেছে।
বইমেলা শেষ হওয়ার পরেও বইয়ের প্রচার ও পাঠের সংস্কৃতি বজায় রাখতে স্থানীয় গ্রন্থাগার ও বিদ্যালয়গুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
**ব্যবহারিক টিপ:** বইমেলা চলাকালীন আপনার পছন্দের শিরোনাম বা বিষয়ের তালিকা আগে থেকে তৈরি করে যান। স্টলগুলোতে দ্রুত সঠিক বই খুঁজে পেতে এই তালিকা কাজে দেবে এবং সময় সাশ্রয় করবে।



