22 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারমজান পূর্বে নওগাঁ বাজারে লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম তীব্রভাবে বেড়ে

রমজান পূর্বে নওগাঁ বাজারে লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম তীব্রভাবে বেড়ে

রমজান মাসের সূচনা আগামীকাল, তবে তা আসার আগে নওগাঁর বিভিন্ন বাজারে লেবু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা, আদা ও রসুনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে লেবুর দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে; এখন ৫০ টাকার নিচে কোনো এক হালি লেবু পাওয়া কঠিন।

গোস্তহাটির মোড়ের পাইকারি সবজি বাজারে আজ সকালে পর্যবেক্ষণ করা হলে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানে লেবু, কাঁচা মরিচ ও বেগুনের সরবরাহ সীমিত। কৃষকরা ভ্যান বা রিকশা ব্যবহার করে লেবু, শসা ও বেগুন নিয়ে আসেন, এবং পাইকারি বিক্রেতারা তা তৎক্ষণাৎ ক্রয় করেন। পৌর খুচরা বাজার, সিও অফিস বাজার, পার‑নওগাঁ যমুনা মার্কেট ও বাঙ্গাবাড়িয়া বাজারে সাধারণত সবজির সঙ্গে লেবু পাওয়া যায়, তবে অধিকাংশ বিক্রেতার কাছে এখন লেবু নেই। যাঁরা লেবুকে প্রধান পণ্য হিসেবে বিক্রি করেন, তাঁরা বিভিন্ন আকারের লেবু সাজিয়ে রেখেছেন।

দাম পরিবর্তনের বিশদে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে এক হালি লেবুর দাম ১৬‑১৮ টাকার মধ্যে ছিল, আর আজ তা ৫০‑৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে বেগুনের কেজি দামে ৩০ টাকার বৃদ্ধি ঘটেছে। কাঁচা মরিচের দামও ৪০‑৫০ টাকার উত্থান পেয়ে এখন প্রতি কেজি ১৫০‑১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসার দামে ৪০ টাকার বৃদ্ধি ঘটিয়ে বর্তমান মূল্য ১২০ টাকার কাছাকাছি। অন্যান্য সবজির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়ে গেছে।

পৌর বাজারের অভিজ্ঞ বিক্রেতা হাবিবুর রহমান, যিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি করছেন, জানান যে শুষ্ক মৌসুমে লেবু ও কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। রমজানের আগমনে চাহিদা তীব্র হওয়ায় তিন‑চার দিনের মধ্যে দাম আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। রসুনের কেজি দামের শুরুর ৮০‑৯০ টাকা থেকে আজ ১৩০‑১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। আদা প্রতি কেজিতে ২০ টাকার বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৫০‑১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর পেঁয়াজের দামও ৬‑১০ টাকার বাড়তি দেখাচ্ছে। ইফতারের জনপ্রিয় অনুষঙ্গের দামও প্রতি কেজিতে ৪০‑৫০ টাকার বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে অনেকেই কষ্টের মুখে পড়ছেন। ক্রেতারা উল্লেখ করছেন, রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ব্যবসায়ীর দাম বাড়ানোর প্রবণতা পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন যে, শীতল ও শুষ্ক মৌসুমে লেবু ও কাঁচা মরিচের সরবরাহ ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, ফলে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানের শেষের দিকে চাহিদা কমে গেলে দাম কিছুটা শিথিল হতে পারে, তবে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে উচ্চ দামের স্তর বজায় থাকবে। একই সঙ্গে, রসুন ও আদার মতো মৌসুমী পণ্যের দামও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সংযুক্ত, তাই বৈশ্বিক সরবরাহে কোনো পরিবর্তন সরাসরি স্থানীয় বাজারকে প্রভাবিত করবে।

ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা উভয়ই মুনাফা রক্ষার জন্য দাম সামঞ্জস্য করছেন, তবে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে, যা বিক্রয় পরিমাণে পতন ঘটাতে পারে। তাই বিক্রেতাদের জন্য বিকল্প সরবরাহ চ্যানেল অনুসন্ধান, সঞ্চয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রাহকদের সঙ্গে স্বচ্ছ মূল্য নীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে, রমজান পূর্বে নওগাঁর মূল সবজি ও মশলার দামে তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে, যার মূল কারণ শুষ্ক মৌসুমে সরবরাহের ঘাটতি এবং রমজানের চাহিদা বৃদ্ধি। ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খলে স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত দাম উচ্চ স্তরে থাকতে পারে, ফলে ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়বে এবং বিক্রেতাদের জন্য বিক্রয় কৌশল পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments